মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিমান হামলায় কোনো পাকিস্তানি মারা যায়নি, সংখ্যা বলেছে মিডিয়া: বিজেপি মন্ত্রী

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ১১:২৩ এএম

পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী বালাকোটে ভারতীয় বিমান হামলা নিয়ে দুদেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, জইশ-ই-মুহাম্মদের ঘাঁটিতে ওই হামলায় ৩০০-৩৫০ জঙ্গি নিহত হয়েছেন।

তবে পাকিস্তানের দাবি ছিল, একটি মাদ্রাসার পাশের জঙ্গলে ওই হামলায় কেবল স্থানীয় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনেরও আহ্বান জানায় তারা।

রয়টার্স, বিবিসি ও আলজাজিরার আলাদা বিশেষ প্রতিবেদনেও হামলার বিষয়ে অনেকটা এমনই বলা হয়েছে। তারা এনিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য প্রকাশ করে।

তবে এবার ওই হামলার হতাহত নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন নরেন্দ্র মোদি সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং দার্জিলিংয়ের বিজেপি আইনপ্রণেতা সুরিন্দর সিং অহলুওয়ালিয়া।

তাকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানায়, পাকিস্তানের বিমান হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইসলামাবাদকে ভয় দেখানো। ভারত যে পাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে সেটা বোঝাতেই চালানো হয়েছিল হামলা।

ভারতের কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বলেননি হামলায় কতজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বলেছে মিডিয়া।

সুরিন্দর সিং বলেন, মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতের সংখ্যা নিয়ে এমন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যার কোনো নিশ্চিত সূত্র নেই।

তিনি বলেন, “ভারতীয় বাহিনীর হামলার পর আমি প্রধানমন্ত্রীকে একটি সভায় বক্তব্য রাখতে শুনেছি। সেখানে তিনি বলেননি হামলায় কতজন নিহত হয়েছে। সরকারের কেউও এমন কথা বলেননি। আমাদের দলের সভাপতিকেও সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করতে  দেখা যায়নি।”

তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সুরিন্দর সিং বলেন, “হামলার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে এটা বুঝিয়ে দেওয়া যে ভারত আঘাত হানতে সক্ষম। কোনো মানুষের মৃত্যু আমাদের লক্ষ্য নয়।”

এদিকে এই বিমান হামলা নিয়ে আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তার দলের আইন প্রণেতা ডেরেক  ও’ব্রায়েন বললেন, বিজেপি নেতারা বিমান হামলার সাফল্যকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। নিহতের সংখ্যাও বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সেনাবহরে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের প্রায় অর্ধশত সদস্য নিহত হন। এর জবাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের কথিত ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী।

এর পরদিনই ভারতের আকাশসীমায় হানা দেয় পাকিস্তানি বিমান। তাদের ধাওয়া করতে গেলে মিগ-২১ সহ দুটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত এবং এক পাইলটকে আটকের দাবি করে পাকিস্তান। পরে পাকিস্তান পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ফেরত দিলে দুদেশের যুদ্ধ উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত