সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘ঠাকুরগাঁওয়ে সেই ৫ জনের মৃত্যু নিপাহ ভাইরাসে’

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০২:৩০ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর কারণ নিপাহ ভাইরাস বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার দুপুর ১২টায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইসিডিআর) বরাত দিয়ে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রকাশ করেন।

সন্দেহভাজন আক্রান্ত ৪ জনের মধ্যে নিপাহ ভাইরাস পাওয়া যায়নি জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন,  ওই পরিবারের মৃত মেহেদী হাসানের মরদেহের উপাত্ত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাসের নমুনা পায় আইইডিসিআর। এজন্য ওই পরিবারের অন্য সদস্য ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে তথ্য ও সন্দেহভাজন আক্রান্তসহ ৪৫ জনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর এর দুটি অনুসন্ধানী টিম।

সোমবার ৪ সদস্যের অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য আরও একটি টিম ঠাকুরগাঁওয়ে পাঠাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

নিপাহ ভাইরাস এড়াতে সকলকে সচেতন ও করণীয় সম্পর্কে বর্ণনা দেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

আইইডিসিআর পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত ব্যক্তিদের সকলের জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি ও মস্তিষ্ক ইনফেকশনের (এনসেফালাইটিস) উপসর্গ ছিল। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে হতে একজনের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় এবং উক্ত নমুনায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উপরোক্ত আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশনে প্রথম মৃত ব্যক্তির খেজুরের কাঁচা রস পান করার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস না পাওয়া গেলেও অন্যান্য মৃত ব্যক্তিরা প্রথম মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছিল বলে আইইডিসিআর ধারণা করছে।

এছাড়া জীবিত সন্দেহভাজন রোগীদের রক্তে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি না পেলেও বিভিন্ন সময়ে মৃত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাস রোধে আইইডিসিআর সবাইকে খেজুরের কাঁচা রস পান না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের নিপাহ সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা (মাস্ক পরে) আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবাদানের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

আইইইডসিআর, আইসিডিডিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পয়লা মার্চ পর্যন্ত মরিচপাড়া গ্রাম ও হাসপাতালগুলোতে তদন্ত চালিয়েছিল।

ভান্ডারদহ মরিচপাড়া গ্রামে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বাবা-মা ও দু’সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।

এদের মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি ফজর আলীর ছেলে তাহের আলী (৫৫) মারা যান। এ ঘটনার ১১ দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি একইভাবে মারা যান জামাতা হাবিবুর রহমান (৩৫) এবং পরের দিন মারা যান তাহের আলীর স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫)।

এর দু’দিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি তার দুই ছেলে ইউসুফ আলী (৩০) ও মেহেদী হাসানও (২৪) মারা যান।

মৃতদের বাড়ি থেকে আশপাশের এক কিলোমিটারে জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে উপজেলা প্রশাসন, অজ্ঞাত রোগের আতঙ্কে বন্ধ করে দেওয়া হয় এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত