কিশোরগঞ্জ জেলায় মুদি-পান দোকানে ও সড়কের মোড়ে মোড়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই নীতিমালা লঙ্ঘন করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে জেলার দুই শতাধিক দোকানে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রল। ফলে যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এলপি গ্যাস প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার মজুদ আইন অনুসরণ করছেন না। ব্যবসা পরিচালনার জন্য সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করলেও ১০টির বেশি সিলিন্ডার রাখার ক্ষেত্রে আবশ্যকীয় লাইসেন্স তাদের নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুদি লন্ড্রি, হার্ডওয়্যার, ক্রোকারিজ, প্রেস, কসমেটিকস ও ওষুধের দোকানের মালিকরা পর্যন্ত খোলামেলা অবস্থায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এ ছাড়া ওইসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ দোকান মালিকরা তা রাখছেন না। আবার কয়েকটি দোকানে অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও বেশির ভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এলপি গ্যাস ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাত করতে হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার বাধ্যতামূলক সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরই এলপি গ্যাস বিক্রির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা দোকান ও গুদামে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা দোকানের সামনের ফুটপাত, জনাকীর্ণ এলাকায় যেখানে-সেখানে পেট্রল ও গ্যাস সিলিন্ডার রেখে বিক্রি করছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শহরে বেশির ভাগ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে সিলিন্ডার গুদাম ও অনিরাপদ ছোট খুচরা ব্যবসায়ীর দোকান থেকে। কিশোরগঞ্জ জেলা শহরেই এখনো শতাধিক লাইসেন্সবিহীন ছোট দোকানে সিলিন্ডার গ্যাস রাখা হয়েছে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. হাবিবুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যারা অবৈধ সিলিন্ডার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
