এইডসমুক্ত হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, চিকিৎসা বিজ্ঞানে আলোড়ন

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ০৭:১০ পিএম

আরও একজন ব্যক্তি মরণব্যাধি এইডসের ভাইরাস থেকে মুক্ত হলেন। এইচআইভিমুক্ত দ্বিতীয় এ ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের এক নাগরিক। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এ সাফল্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল ‘নেচার’-এ এইচআইভি মুক্তি সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এতেই প্রকাশ পায় এ সাফল্যের কথা।

নিরাপত্তার কারণে রোগীর নাম-পরিচয়, বয়স গোপন রাখা হয়েছে। ২০০৩ সালে এইচআইভিতে আক্রান্ত হন তিনি এবং ২০১২ সাল থেকে থেরাপি ও প্রচলিত চিকিৎসা নিতে থাকেন।

এ রোগীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘লন্ডন প্যাশেন্ট অর্থাৎ লন্ডনের রোগী’। ‘বার্লিন প্যাশেন্ট’ নামে প্রথম রোগী এইচআইভিমুক্ত হওয়ার ১০ বছরের মাথায় দ্বিতীয় এই ব্যক্তি প্রাণঘাতী এইচআইভি ভাইরাসমুক্ত হলেন।

উভয় রোগীকেই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এইচআইভিমুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিস্থাপনের পর ১৮ মাস কেটে গেলেও ওই রোগীকে কোনো থেরাপি বা ওষুধ খেতে হয়নি।

প্রকাশিত নিবন্ধে বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী অভিমত প্রকাশ করে জানান, লন্ডন প্যাশেন্ট নামের ওই রোগী এইডসের ভাইরাল ইনফেকশন থেকে এখন মুক্ত। তাদের এমন পদ্ধতি বিশ্বে তিন কোটি ৭০ লাখ এইডস আক্রান্ত রোগীর ওপর প্রভাব ফেলবে। এমন সাফল্য মানুষকে এইডস নির্মূলে আশাবাদী করে তুলবে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গবেষকদলের নেতৃত্বে আছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক রবীন্দ্র গুপ্তা। তিনি রোগীর শরীর থেকে এইচআইভি ভাইরাস নির্মূলের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আগের পদ্ধতি ব্যবহার করে দ্বিতীয় একজনকে এইচআইভি থেকে উপশম করা সম্ভব হয়। তবে এ সাফল্যের মানে এই নয় যে, এইচআইভি থেকে আরোগ্য লাভের চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। এ ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, বিজ্ঞানীরা একদিন এইডস নির্মূল করতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ও আমার সহকর্মীরা ওই ব্যক্তির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। তবে এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না যে তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন। ২০০৭ সালে যে রোগীর শরীর থেকে এইচআইভি নির্মূল করা হয়েছিল তিনি এখন ভাইরাসমুক্ত।”

বিশ্বে বর্তমানে তিন কোটি ৭০ লাখ মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতি বছর ১০ লক্ষাধিক মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা যে পন্থায় এইচআইভি থেকে রোগীদের মুক্ত করার চেষ্টা করছেন, তার মূলে রয়েছে এই ভাইরাসকে দমিত করে রাখা। কিন্তু দমন করে রাখাই সমস্যার সমাধান নয় বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষক ও চিকিৎসক শ্যারন লেউইন জানান, প্রথম ঘটনার ১০ বছর পর আবারও একই পদ্ধতিতে এই রোগীকে এইচআইভিমুক্ত করা হয়েছে। এটা নিশ্চিত করে যে, সিসিআর৫-নেগেটিভ (জেনেটিক মিউটেশন) এইচআইভি ভাইরাসকে নতুন করে মাথাচাড়া দিতে বাধা দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত