আগামীকাল রবিবার (১০ মার্চ) রাজশাহীর ৮টি উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বাঘা এবং মোহনপুরে চেয়ারম্যান পদে দুই আওয়ামী লীগ নেতা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৬ উপজেলার মধ্যে ৫টিতেই নৌকা প্রতীকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন দলের ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ নিয়ে গোদাগাড়ী, তানোর এবং দুর্গাপুর উপজেলায় শেষ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সহিংস উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
গোদাগাড়ীতে গত কয়েকদিন ধরেই বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামানের প্রচার কাজে বাধা দেওয়া, হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বদিউজ্জামানের ওপর স্থানীয় সংসদ সদস্য হামলার নির্দেশ দিয়েছেন এমন অডিও প্রকাশিত হয়েছে। বদিউজ্জামানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দেন। শেষ পর্যায়ে বিরোধের মাত্রা আরও বেড়েছে। নির্বাচনের দিন দুই পক্ষ মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বুধবার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী প্রচারের জন্য ব্যবহার করা একটি গাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী বদিউজ্জামানের প্রচার মাইক ভেঙে ফেলে নৌকার সমর্থকরা।
তানোরে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি লুৎফর রশিদ হায়দার ময়না। কৃষক লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার পর তাকে না দেওয়ায় তিনি দলত্যাগ করে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হয়েছেন। সেক্ষত্রে বলা যায় এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে নিজ দলের প্রার্থীর সঙ্গে। দুই প্রার্থীর পক্ষেই রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। প্রচার শুরুর পর থেকেই পরস্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে একাধিক হামলা-পাল্টা হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় জড়িয়েছে দু’পক্ষের সমর্থকরা।
দুর্গাপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে শুরু থেকেই। দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে দুই পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আবদুল মজিদ সরদারের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র গত ১ মার্চ দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এখানেও ভোটের দিনে উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনার প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় রাজশাহীর দুর্গাপুর, তানোর এবং গোদাগাড়ী উপজেলায় বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি ওঠে। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
