বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন মেনে চলার তাগিদ শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যথাযথভাবে আইন মেনে চলে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, শিক্ষা খাতে যেসব পরিবর্তন হচ্ছে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদে বেসরকারি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউ) প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে মানোন্নয়নের জন্য আমাদের যে কারিকুলাম আছে সেটার পাশাপাশি মানবিকতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্যবোধ, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের মনের মধ্যে প্রোথিত করে দিতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকতে হবে।’

উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে আহ্বান জানিয়ে সমাবর্তনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দীপু মনি বলেন, ‘যদি স্বপ্ন থাকে মনে তাহলে তোমরাও স্বপ্নের সমান বড় হতে পারবে। এই বিশ্বকে তোমরা একটি শান্তিময় বিশ্ব হিসেবে গড়ার স্বপ্ন দেখবে। দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সোনার মানুষ লাগবে। জাতি তোমাদের কাছ থেকে যে কর্তব্যবোধ আশা করে, সেটিকে মাথায় রেখে নিজেদের গড়ে তুলবে। একজন মানুষের লক্ষ্য অর্জনে শৃঙ্খলা খুব জরুরি।’

ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের উদ্ধৃতি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্বপ্ন সেটি নয়, যেটি তুমি ঘুমিয়ে দেখো। স্বপ্ন সেটি যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না। আমরা বলি, জ্ঞানই শক্তি। কিন্তু শুধু জ্ঞানই শক্তি নয়। জ্ঞানকে যখন বাস্তবায়ন করা যায়, সেটাই হয় ক্ষমতা।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি তথা আচার্য কর্র্তৃক নিয়োগকৃত উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও পর্ষদকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ আছে।’

অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সনদ বাণিজ্য করছে এমন অভিযোগ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আচার্য কর্র্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পরিচালনা বোর্ড বরখাস্ত করারও নজির আছে। এমনকি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত অ্যাকাডেমিক সভাও করে না। সম্ভাবনাময় শিক্ষা খাতটি এসব অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অনিয়ম হতে বিরত থাকবে বলে আশা করছি।’

সমাবর্তন বক্তা একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যা কিছু অর্জন, যা কিছু আমাদের গৌরবের; তার প্রত্যেকটির সঙ্গে তরুণরা জড়িত রয়েছে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন করেছিল ছাত্ররা। তাদের রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সাহিত্যিক বলেন, ‘জন্মগ্রহণ করে যে বাংলাদেশকে দেখেছো, মৃত্যুর সময় যেন তার চেয়ে বড় বাংলাদেশকে দেখে যেতে পারো সেই স্বপ্ন দেখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন ইডিইউর বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ভাইস চেয়ারম্যান সাইদ আল নোমান ও উপাচার্য মুহাম্মদ সিকান্দার খান। সমাবর্তনে প্রায় ৬০০ গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত