জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। নানা মাত্রিক চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। বর্তমানে তিনি সাগর জাহানের একটি সাত পর্বের ধারাবাহিকে কাজ করছেন। কক্সবাজারে চলছে শুটিং। সেখান থেকেই দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বললেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।
আপনার গোঁফওয়ালা একটি ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে?
হ্যাঁ, সাগর জাহানের একটা নাটকে কাজ করছি। ‘৩২১০’ নামের একটি ধারাবাহিক। ওখানেই নতুন লুকটা নেওয়া। ভাইরাল হয়েছে জেনে ভালো লাগল।
আর কী কী কাজ করছেন?
এখন আসলে ঈদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। বেশ কিছু কাজ হাতে আছে। সঙ্গে পুরোনো ধারাবাহিকের কাজও আছে। আর ঈদের কাজের প্রস্তাব আসতেছে কমবেশি। একটু বেছে বেছে কাজ করারই চেষ্টা করছি।
বর্তমানে তো টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি ওয়েব ধারাবাহিকও নির্মিত হচ্ছে। দুটোর মধ্যে কোনো পার্থক্য কি চোখে পড়ে আপনার?
পার্থক্যের কি আছে। আমার কাজ অভিনয় করা, অভিনয় করে যাচ্ছি। অভিনয় নিয়েই ভাবতে চাই। পার্থক্য নিয়ে ভাবতে চাই না।
অনেক তারকাই ইউটিউব চ্যানেল খুলছেন। আপনারও কি কোনো পরিকল্পনা আছে?
না। এমন কোনো পরিকল্পনা নেই আমার। আমি আসলে একটু অলস টাইপের লোক। আপাতত অভিনয়ের বাইরে আর কিছু নিয়ে ভাবছি না।
নতুন নতুন লুকে হাজির হতে কেমন লাগে?
প্রতিনিয়তই নতুন নতুন লুকে হাজির হতে হয় আমাকে। একজন অভিনেতার কাজ কি? নতুন নতুন চরিত্রে হাজির হয়ে দর্শককে আনন্দ দেওয়া। আমিও সেই কাজটাই করছি। চরিত্রকে ধারণ করাই একজন অভিনেতার কাজ।
চরিত্রটাকে ধারণ করার কৌশল?
সবারই একটা কৌশল থাকে। অভিনেতার যেমন কৌশল আছে, তেমনি মিষ্টির কারিগরেরও কৌশল আছে। যার কৌশল যত ভালো তার মিষ্টি তত সুস্বাদু। আমি ছোটবেলা থেকেই অভিনয়টাকে ভালোবেসেছি। আমার ভালোবাসার পেছনে দীর্ঘদিন লেগেছিলাম। তারই ফলে হয়তো অভিনয়ের কৌশলটা আয়ত্ত করতে পেরেছি।

তরুণদের কাছে আপনি আইডল, আপনার আইডল কে?
আমার কোনো আইডল নেই। কখনোই আমি ভাবি নাই যে, অমুকের মতো আমাকে হতে হবে। যারা আমাকে আইডল ভাবে তাদের বলব ওরা যেন ওদের মতো হয়। একটা কথা বলে রাখি, বেশির ভাগ মানুষ অস্থিরতা আর লোভের কারণে তার ভালো লাগাটা আবিষ্কার করতে পারে না। ফলে আগে নিজের ভালো লাগাটা আবিষ্কার করতে হবে। নিজের ভালো লাগা আবিষ্কার করতে পারলেই সে সবার কাছে আইডল হবে।
আপনার বেশির ভাগ নাটকই হাসিনির্ভর। সিরিয়াস নাটক খুব কম, অভিনেতা হিসেবে কোনো দায়বোধ করেন কিনা?
শিল্পীর একটা দায়িত্ব হয় তো আছে যে, আমরা কিছু শেখাতে চাই। এই চাওয়ার মধ্যে একটা মাস্টারিও আছে। আমি মনে করি আমি অভিনয় করে যদি একটা লোকের মন ভালো করে দিতে পারি তাহলে আমি মনে করব যে আমি একটা কাজ করলাম। মানুষের মন ভালো করে দিলেই তো হলো। আর তো কিছুর দরকার নেই। শেখানোটাও দরকার কিন্তু সেটা নাটক বানিয়েই শেখাতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
আপনি কি তৃপ্ত?
একটা চরিত্রের ভেতরে যখন নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায় তখন ভালো লাগে। কাজ করে তৃপ্তি পাওয়া যায়। কিছু কাজ করেছি যেগুলো আমাকে কিছুটা তৃপ্তি হয় তো দিয়েছে। কিন্তু কাজের ক্ষুধা তো অনন্ত। তৃপ্ত হই কী করে?
কতগুলো নাটকে নিজেকে খুঁজে পেয়েছিলেন? মনে আছে কি?
প্রথমে মঞ্চের কথা বলব। আরজ চরিতামৃতের আরজ। ওটায় একটা বাচ্চা ক্যারেক্টার করে ভালো লেগেছিল। সুখ নামের একটি নাটক ছিল।এটাতে অভিনয় করেও ভালো লেগেছে। আর মিডিয়ায় এসে তো প্রচুর নাটকে প্রচুর চরিত্রে অভিনয় করেছি। অনেক চরিত্রই এনজয় করেছি। তারপরও মনে হয় সেই ক্যারেক্টারগুলোকে আরও অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়া যেতো।

ব্যক্তি এবং অভিনেতা-এই দুই সত্তাকে কীভাবে দেখেন?
দুটো সত্তাই এক। একাকার। কারণ অভিনেতা মোশাররফ করিম কখনোই ব্যক্তি মোশাররফ করিম থেকে আলাদা হয়ে যান না। সম্ভবও না। কেননা অভিনয়ের যে চরিত্র তাকে রূপ দিচ্ছে কে? ব্যক্তি মোশাররফ করিম। আর সেই চরিত্র রূপ দিতে গিয়ে তাকে অবজার্ভ করতে হচ্ছে। এই অবজারভারও কিন্তু ব্যক্তি মোশাররফ করিমই।
