গণবিক্ষোভের মুখে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুতেফিকা নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। পঞ্চমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত গণবিক্ষোভ শুরু হলে বুতেফিকা এ ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে পিছিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনও।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আলজেরিয়া প্রেস সার্ভিস (এপিএস) সোমবার একথা জানায়।
দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা ৮২ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট বুতেফিকা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে জাতীয় কনফারেন্স ও সংবিধান সংস্কারের পর ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আলজাজিরা জানায়, ১৮ এপ্রিল দেশটিতে নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ ছিল। এক কনফারেন্সে বুতেফিকা ঘোষণা দেন, এদিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে না। জনগণের দাবির মুখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি জানান।
বুতেফিকা ২০১৩ সাল থেকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না। এরপরেও তিনি তার ২০ বছরের শাসনামলকে আরও বেশি দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছা পোষণ করলে আলজেরিয়ার জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। একাধিক শহরের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নামে।
তবে বুতেফিকার সোমবারের ঘোষণার পর পাল্টে গেছে গত কয়েক সপ্তাহের এ বিক্ষোভের চিত্র। নির্বাচনের আগে জাতীয় কনফারেন্স ও সংবিধান সংস্কারের ঘোষণা উদযাপন করতে থাকে রাজধানী আলজেরিয়ার রাজপথে থাকা বিক্ষোভকারীরা। গাড়ির হর্ন বাজিয়ে, জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এবং জাতীয় সংগীত গেয়ে তারা উল্লাস শুরু করেন।
তবে অনেকেই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করাকে সংশয়ের দৃষ্টিতে দেখছেন। এতে প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতির মাত্র এক ধাপ এগিয়েছেন বলছেন তারা। জনগণের দাবি পুরোপুরি মেনে না নিয়ে তিনি কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন।
সমালোচকদের মতে, এর মধ্য দিয়ে নিজের কোনো উত্তরসূরিকে ক্ষমতায় আসীন করতে বুতেফিকা সময় নিলেন মূলত।
তবে এর মধ্যে সরকারে ব্যাপক রদবদল এসেছে। সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী আহমেদ উয়াহিয়া পদত্যাগ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুরেদ্দিন বেদুয়িকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে দিয়েছেন বুতেফিকা। নতুন করে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রামতানে লামামরাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
