বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় দুজনকে যবিপ্রবি থেকে আজীবন বহিষ্কার

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ০৮:০৭ পিএম

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রথম বর্ষের ১২ জন শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিং, যৌন নিপীড়ন ও বিকৃত যৌন চারে বাধ্য করার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুজনকে আজীবন, একজনকে দুই বছর এবং অপর ছয়জনকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তর।  

তাদের অপরাধের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত ও ভুক্তভোগী সকলেই যবিপ্রবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, র‌্যাগিং, যৌন নিপীড়ন এবং বিকৃত যৌনাচারে বাধ্যকরণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ভুক্তভোগী ১২ জনসহ মোট ৪০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান। একই সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাদের সঙ্গেও তদন্ত কমিটি কথা বলেন।

এ ঘটনায় জড়িত ছাত্ররা তদন্ত কমিটির সঙ্গে অসংলগ্ন, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং তদন্ত কমিটি দেখেন যে, র‌্যাগিংয়ে জড়িত ছাত্ররা যে অপরাধ করেছে এ বিষয়ে তারা যথাযথ অনুতাপ বা দুঃখ প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করায় র‌্যাগিংয়ের শিকার ছাত্রদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করানো হয়।

এ সংক্রান্ত ফোনকলের রেকর্ডও তদন্ত কমিটির হাতে রয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাগিংয়ের শিকার হওয়া একজন ছাত্র ঘটনার পর থেকে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগী অন্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং স্বাভাবিক হতে পারছেন না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে র‌্যাগিং রোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে।

এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আচরণবিধির ৩ এর (এ ও বি) অনুযায়ী বহিষ্কারের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

আজীবন বহিষ্কৃত হওয়া ছাত্ররা হলেন- দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. অলি উল্লাহ (রোল-১৭১৩১২) ও মাহমুদুল হাসান (রোল-১৭১৩৩৪)।

 দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রজিবুল হক রজব (রোল-১৫১৩৩০); এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন- চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. আবদুল কাদের (রোল-১৫১৩২৩)।

এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আল মুজাহিদ আফ্রিদি (রোল-১৭১৩২৮), মো. শহিদুল ইসলাম (রোল-১৭১৩১৪), মো. রোকনুজ্জামান রোকন (রোল-১৭১৩০৫), অনুপ মালাকার (রোল-১৭১৩৩০) এবং মো. শামীম বিশ্বাস (রোল-১৭১৩৩৭)।

এছাড়া এ ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবু বক্কর সিদ্দিকী (রোল-১৫১৩১৯), দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শতদল পাল (রোল-১৬১৩০২) ও ইমরান হোসেনকে (রোল-১৭১৩২০) চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে র‌্যাগিংসহ শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে না মর্মে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের আইনানুগ অভিভাবকগণ এবং তিনি নিজে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার না দিলে ওই তিনজন ছাত্রকেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানান রেজিস্ট্রার। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত