আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালের উৎপাত

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ১১:০০ পিএম

আখাউড়া পৌর শহরের চন্দনসার গ্রামের মোক্তার হোসেন বেগ সম্প্রতি আখাউড়া হাসপাতালে আসেন তার পায়ের কাটা ঘা নিয়ে। একঘণ্টা অপেক্ষা করে ডাক্তারের কক্ষে ঢোকেন। পরে বিনামূল্যের ওষুধ নিতে তার আরও একঘণ্টা সময় লেগে গেছে।
মোক্তার হোসেন ক্ষোভ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিস কক্ষে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুর রহমানকে জানান, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও দালালদের কারণে হাসপাতালে ঢোকা যায় না। রোগীর চেয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও দালাল বেশি। এর একটি বিহিত করার জন্য ওই কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যাপারে ডা. রাশেদ এ প্রতিবেদকের সামনেই বলেন, এখানে লোকবল কম। নানা সমস্যা রয়েছে। সমাধানের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই সমাধান হবে বলে আশা করছি।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও রোগীদের চিকিৎসাসেবার কোনো উন্নতি হয়নি। এখানে মোট ১১ ডাক্তারের পদ রয়েছে। এর মধ্যে আছেন ইউএইচসহ ৬ জন। মেডিসিন কনসালটেন্ট, গাইনি কনসালটেন্ট, ডেন্টাল সার্জন ও ২ জন মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য। কাগজে-কলমে ৬ ডাক্তার থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এখানে আসা রোগীদের  কয়েকজন জানান, প্রতিদিন দুই থেকে তিনজনের বেশি ডাক্তার হাসপাতালে আসেন না। রুটিন মাফিক প্রতিদিন থাকার কথা থাকলেও ডাক্তাররা পালা করে দায়িত্ব পালন করছেন এখানে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে আখাউড়া হাসপাতালে দেখা যায়, তিনজন ডাক্তার নিজ নিজ কক্ষে রোগী দেখছেন। রোগীরা ডাক্তার দেখিয়ে বের হয়ে হাসপাতালের বারান্দা ও গেইটে পৌঁছলেই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের ঘিরে ধরেন প্রেসক্রিপশন দেখতে। রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নিচ্ছেন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি নতুন জয়েন করেছি। দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ছুটি, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারণে অনেক সময় হাসপাতালে ডাক্তার কম থাকেন। ডাক্তারদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ হবে বলে আশা করছি। সেবাও নিশ্চিত করা হবে। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত