বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের আগে দল গোছানোর সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০৩:৫২ এএম

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে দল গোছানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এ বৈঠকে স্কাইপিতে যোগ দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈঠকে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি এখন ঐক্যফ্রন্টমুখী দলে পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে প্রয়োজনে রাজপথের আন্দোলনে নামতে হবে। এর আগে দল ও সহযোগী সংগঠনগুলো গুছিয়ে ফেলতে হবে। তারা আরও জানান, প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০-দলীয় জোট, ডাকসু ভোটসহ আগামী দিনে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বক্তব্য শোনেন। তবে তিনি অল্প কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার সমালোচনা করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, না কি ভুল ছিল তা ইতিহাস একদিন তুলে ধরবে। এখন ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতিকে বন্ধ করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দলকে গোছাতে হবে। সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।

জামায়াত প্রসঙ্গে আরেক নেতা বলেন, খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছেন। তাই তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। আরেক নেতা বলেন, জামায়াত বিএনপির একটি বোঝা। তারা সরে যাবে কী, তাদেরই সরিয়ে দেওয়া উচিত। আরেক নেতা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়মিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন আর তা হচ্ছে না। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। তার ওই বক্তব্যের পর সপ্তাহে অন্তত একবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। শেষ দিকে তারেক রহমান দলের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ  দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ দেন তিনি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত