কাঁচপুর দ্বিতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুতে যান চলাচল শুরু

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০৮:৪৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দ্বিতীয় কাঁচপুর শীতলক্ষ্যা সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু করেছে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সেতুর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর পরই এ সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। 

প্রধানমন্ত্রী এ সেতুকে ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নামকরণ করেছেন। এ সেতু খুলে দেওয়ায়  ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানজট নিরসন হবে বলে জানান এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা।

তবে নতুন সেতু খুলে দেওয়া হলেও পুরোনো কাঁচপুর সেতু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো সেতুর সংস্কার কাজ করার জন্যই এটি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর উদ্বোধনে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একে এম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ আওয়ামী লীগ নেতা, ব্যবসায়ী নেতাসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া।

যেকোনো ছুটিতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে লেগে থাকত দীর্ঘ যানজট। দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নির্মাণের ফলে এই যানজট অনেকটাই কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এর মধ্যে রোজার ঈদের আগেই মেঘনা সেতু চালু হবে বলে জানানো হয়েছে। যদি এটি চালু হয় তাহলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট একেবারেই থাকবে না বলে জানিয়েছেন সেতু কর্তৃপক্ষ।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮ মিটার প্রস্থ দ্বিতীয় কাঁচপুর শীতলক্ষ্যা সেতুটি যানচলাচলের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট অনেকটা কমে আসবে। এদিকে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে এবং খুব শিগগির এ সেতু দুটিও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবায়শি করপোরেশন, শিমিজু করপোরেশন, জেএফই ইঞ্জিনিয়ার করপোরেশন এবং আইএইচআই ইনফ্রা সিস্টেম কোম্পানি লি: ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতুর পাশাপাশি দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। আগামী জুনে এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস আগেই কাঁচপুর শীতলক্ষ্যা সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।

তারা আরো জানান, কাঁচপুর শীতলক্ষ্যা সেতু পূর্ব দিকে সেতুর নিচ দিয়ে ইউটার্ন হয়ে চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের যানবাহনগুলো চলছে। তবে সিলেট মহাসড়ক হয়ে ঢাকায় প্রবেশের উড়াল সড়কের কাজ এখনো শেষ হয়নি। দ্রুত গতিতে চলছে ওই সড়কের কাজও।

সেতু পুনর্বাসন প্রকল্পের পরিচালক আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান জানান, চার লেনের নতুন কাঁচপুর দ্বিতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুটির ভিত্তি কংক্রিটের ঢালাই এবং ৫টি পিলারের ওপর স্টিল গার্ডারের। ১০০ বছরের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে নির্মাণ করা। সেতুটির ঠিকাদার যৌথভাবে জাপানি চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর সেতুর উপ-ঠিকাদার বাংলাদেশের মীর আকতার হোসেন। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। মোট ব্যয়ের ৭৫ ভাগের যোগান দেয় জাইকা। আর ২৫ ভাগ অর্থ ব্যয় হয় বাংলাদেশ সরকারের। নতুন এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৯৭ দশমিক ৩০ মিটার। প্রস্থ ১৮ দশমিক ১ মিটার।

আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান আরও জানান, শীতলক্ষ্যা সেতুটিতে যানচলাচল শুরু হয়েছে। এবার পুরোনো কাঁচপুর সেতুটির মেরামত কাজ শুরু হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ পুরাতন সেতুটির কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দুটি সেতু এক সঙ্গে চালু থাকলে যানজট থাকবে না বলে তিনি জানান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) মোল্লা তসলিম হোসেন জানান, কাঁচপুর দ্বিতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। পুরাতন সেতু ও মেঘনা ও গোমতী সেতু চালু হবে এ বছরই। এ তিনটি সেতুর কাজ শেষ হলে যানজট থাকবে না। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্রুত গাড়িগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে।

তিনি আরো জানান, গত দু’দিনও অনেক যানজট ছিল। আজ কাঁচপুর শীতলক্ষ্যা সেতু উদ্বোধনের ফলে যানজট অনেকাংশেই কমে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত