ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পুনর্নির্বাচন দাবিতে পাঁচটি প্যানেলের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মিছিল নিয়ে তারা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।
কর্মসূচিতে দেখা যায়নি ডাকসুর নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে। কর্মসূচিতে ছিলেন না প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দীও।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খান বলেন, নুর অসুস্থ, তাই কর্মসূচিতে আসতে পারেনি।
স্বতন্ত্র জোট প্যানেলের ভিপি প্রার্থী অরণী সেমন্তি খান বলেন, আমরা ডাকসুর নির্বাচনের আগে ও পরে অনেকবার ভিসি স্যারের কাছে এসে অনিয়মের মৌখিক অভিযোগ করেছি। কিন্তু তিনি বলেছেন লিখিত অভিযোগ দিতে। আমরা সেটাও দিয়েছি। তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছি। কিন্তু ভিসি স্যারের কাছ থেকে কোনো জবাব পাইনি।
লিটন নন্দীর বিষয়ে তিনি বলেন, লিটন নন্দী বোধ হয় অসুস্থ। তবে তার প্যানেলের প্রতিনিধিরা এখানে রয়েছেন।
জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র এ আর এম আসিফুর রহমান বলেন, পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভোট বর্জন করেও ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল হক নুর। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হয়েছেন সাদ্দাম হোসেন।
ডাকসুর মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২৩ টিতেই ছাত্রলীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ১৮টি হল সংসদের মধ্যে ১২ টিতে ভিপি পদে জয়ী হয়েছে ছাত্রলীগ। বাকি ছয়টি হলে ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
তবে বস্তাভর্তি সিলমারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ভোটের দিন দুপুরেই ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সাত প্যানেলের শিক্ষার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। পরদিন নতুন নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে বাম জোটসহ পাঁচটি প্যানেল।
