ইরানকে সঙ্গে নিয়ে তুরস্ক দেশটির পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টিকে (পিকেকে) লক্ষ্য করে সোমবার সকালের দিকে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সয়লু।
ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্তালায়ায় এক জন সমাবেশে তিনি বলেন, “আমাদের পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে পিকেকে লক্ষ্য করে সকাল আটটার দিকে ইরানকে নিয়ে আমরা অভিযান শুরু করেছি। পরবর্তীতে এর ফলাফল জানানো হবে।”
গত ৬ মার্চও প্রতিরক্ষামূলক এই অভিযান নিয়ে কথা বলেছিলেন সয়লু। এরপর বিস্তারিত কোনো তথ্য আর জানাননি তিনি।
তবে এই অভিযান নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে ইরানিয়ান রাষ্ট্রীয় বার্তা ইরনা। তাদের খববে বলা হচ্ছে, ইরানের প্রতিরক্ষাবাহিনী কুর্দিদের বিপক্ষে কোনো অভিযানে যায়নি।
তুরস্ক ও পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ পিকেকেকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে দেখে থাকে। সংখ্যালঘু কুর্দিদের জন্য তুরস্কে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের দাবিতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পিকেকে। এ ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতায় অন্তত দশ হাজার মানুষের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে।
তুরস্ক ও উত্তর ইরাকে নিজেদের ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা করে কুর্দিদের সংগঠন পিকেকে। আর সিরিয়ায় তারা পরিচিত পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (পিজেএকে) নামে।
পিকেকের ইরানিয়ান প্রশাখা কুর্দিস্থান ফ্রি লাইফ পার্টি (পিজেএকে) ২০০৪ সাল থেকে তেহরানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক হামলা চালিয়েছে।
২০১৫ সালে পিকেকে ও আঙ্কারার মধ্যে শান্তি আলোচনায় ছেদ ঘটে। এরপর থেকে কুর্দি বিদ্রোহী অধ্যুষিত তুরস্কের অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে আকাশ পথে ও স্থল পথে হামলা চালিয়ে আসছে তুরস্কের সামরিকবাহিনী। কুর্দিদের বিরুদ্ধে উত্তর সিরিয়ায়ও ২০১৬ ও ২০১৮ সালে দুইবার সামরিক অভিযান চালানো হয়।
