ভোটের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ধৈর্যশীল আচরণ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখাসহ তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হলের প্রাধ্যক্ষবৃন্দ এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
তারা আরো বলেন যে, উপস্থিত ভোটারদের কেউ ভোট দিতে পারেনি বা কারোর ভোট অন্য কেউ দিয়েছে বা কেউ ভোট দিতে বাধা প্রাপ্ত বা হেনস্তার শিকার হয়েছে- এমন কোনো অভিযোগ তারা পাননি।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রভোস্ট কমিটির এক সভা ১৮ মার্চ ২০১৯ সোমবার উপাচার্যের বাসভবনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এবং বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন।সেই সভায় প্রাধ্যক্ষবৃন্দ তাদের এই অভিমত জানান’।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ই মার্চ ২০১৯ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়- স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষক দল নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক অননুমোদিতভাবে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ ও প্রচারমাধ্যমে নির্বাচন সম্পর্কে অসত্য তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নিন্দনীয় বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়। তাদের দায়িত্বশীল আচরণের প্রতি যত্নশীল থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাধ্যক্ষবৃন্দ উপাচার্য মহোদয়ের নিকট জোর দাবি জানান।
সভায় প্রাধ্যক্ষবৃন্দ দৃঢ় চিত্তে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সকল হলে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া, যে দু’একটি বিচ্ছিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল সেসব কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিরসন করে। অনেক প্রার্থী এবং ভোটার-শিক্ষার্থীবৃন্দ নির্বাচন চলাকালে এবং নির্বাচন-উত্তর সময়ে সততা, আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের এক বিরাট কর্মযজ্ঞ আয়োজনের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক ও সংযুক্ত শিক্ষক বৃন্দসহ দায়িত্বরত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মর্মে প্রাধ্যক্ষবৃন্দ আনন্দের সঙ্গে সভাকে অবহিত করেন।
সভায় অভিমত ব্যক্ত হয় যে, এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কতিপয় বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করার হীন অপপ্রয়াসে কোনো কোনো মহল লিপ্ত হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অসত্য উসকানিমূলক তথ্য পরিবেশন ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, আগামী শনিবার সকাল ১১ টায় নবনির্বাচিত ডাকসু ও একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হল সংসদ কার্যকর পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ডাকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিত কার্যকর পরিষদের সদস্যদের পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দায়িত্বভার গ্রহণসহ পরবর্তী কার্যক্রম বিষয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো অন্য একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামকে ডাকসু-২০১৯ এর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর গঠনতন্ত্রের ৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তাকে এই মনোনয়ন প্রদান করেছেন।
