পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা বদলের অভিযোগ

চিকিৎসক বলছেন ‘ধর্ষণ’ এসআইর দাবি ‘চেষ্টা’

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১১:৫৭ পিএম

শিশুটির বয়স সাত বছর। অপরিচিত কাউকে দেখলেই মায়ের আঁচলে লুকিয়ে যায়। সেই সঙ্গে কান্না শুরু করে। কিছুতেই থামে না তার কান্না। মা ছাড়া কাউকে চেনে না শিশুটি। গত রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিশুটিকে সুমন (২০) নামে এক যুবক ধর্ষণ করে বলে জানায় পরিবার। এ ঘটনার পর ফতুল্লা মডেল থানায় ধর্ষণের মামলা করেন শিশুটির মা। বাদীর অভিযোগ, ধর্ষণের মামলার এজাহার বদলে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, এজাহার পরিবর্তন হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ আহমেদ বলেন, ‘আমি মামলার এজাহার বদল করিনি, বাদী নিজেই এজাহার সংশোধন করে দিয়েছেন। এখানে আমার কোনো হাত নেই।’ তবে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ওই শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছি আমরা।’

এ বিষয়ে মামলার বাদী ও শিশুটির মা বলেন, ‘মূলত আসামিকে বাঁচানোর জন্যই আমাকে না জানিয়ে মামলার এজাহার বদলে দিয়েছেন এসআই শুভ। এ অবস্থায় শিশু ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছি আমরা। নির্যাতনের শিকার মেয়েটা চার দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অথচ পুলিশ বলছে প্রাথমিক চিকিৎসার কথা। পুলিশ ধর্ষকের পক্ষ নিলে আমরা কার কাছে যাব?’

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শুভ বলেন, ‘মেয়ের মায়ের কথায় তো আর ধর্ষণ লেখা যায় না। মেয়ে বলছে, ওর কিছু হয়নি। কোনো প্রমাণ নেই। এ জন্য ধর্ষণচেষ্টা লেখা হয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ বাদীকে না জানিয়ে মামলার এজাহার বদলে দেওয়ার প্রসঙ্গে এসআই শুভ বলেন, ‘আমি এজাহার বদলাইনি। বাদী নিজেই পরবর্তীতে এটি সংশোধন করেছেন। সেখানে তার স্বাক্ষরও আছে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কথামতো সাদা কাগজসহ বেশকিছু কাগজে স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করে মামলার বাদী বলেন, ‘পড়াশোনা না জানায় কখন কোথায় স্বাক্ষর করেছি, সেটা আমি জানি না। তবে এসআই যা বলেছেন, আমি তাই করেছি।’

শিশুটির বড় ভাই বলেন, ‘মামলার পর থেকে আমাদের কোনো সহযোগিতা করেনি পুলিশ। উল্টো মামলার এজাহার বদলে ফেলেছেন এসআই শুভ। বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামির অবস্থান জানানো হলেও গ্রেপ্তার করেননি। উল্টো বলেছেন, আসামিকে যেন চোখে চোখে রাখা হয়। পরবর্তীতে আমি নিজেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশের সহায়তায় আসামিকে ধরে ফতুল্লা থানা পুলিশে সোপর্দ করি।’

শিশুটির ভাইয়ের অভিযোগ, ‘আসামি ধরতে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যবহৃত গাড়ির তেল খরচ বাবদ টাকা দিতে হয়েছে আমাকে। ঘটনার পর থেকে আসামিপক্ষ এলাকার প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছে।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারপক্ষের কৌঁসুলি (এপিপি) জাসমিন আহমেদ বলেন, ‘বাদীকে না জানিয়ে মামলার এজাহার পরিবর্তন করা আইনবিরোধী। এর মাধ্যমে আসামিকে বাঁচানোর চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’

জানতে চাইলে ফতুল্লা থানার ওসি মঞ্জুর কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি যদি মামলার এজাহার বদলে দেন তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত