বাংলাদেশের সমর্থক আজ নেপালিরাও

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৯, ১২:১৫ এএম

২৫ এপ্রিল, ২০১৫। গোটা নেপালজুড়ে সেদিন নেমে এসেছিল অমানিশার অন্ধকার। ভয়ংকর এক ভূমিকম্পে মারা যায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাখো দালান-কোঠা। এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর গোটা বিশ^ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল নেপালের প্রতি। বাংলাদেশও সাধ্য অনুযায়ী বন্ধুরাষ্ট্রকে দিয়েছে সহায়তা। ভূমিকম্পের ধকল কাটাতে যখন হিমশিম খাচ্ছে গোটা দেশ, সে বছরই সেপ্টেম্বরে তাদের ওপর নেমে আসে আরেক কৃত্রিম দুর্যোগ। হঠাৎ করেই প্রতিবেশী ভারতের পক্ষ থেকে অঘোষিত এক অবরোধ নেমে আসে নেপালের ওপর। জ¦ালানি এবং খাদ্যের এই অবরোধে নেপালের অর্থনীতি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারতের বৈমাত্রেয় আচরণে যে ক্ষতি হয় তা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে গত কয়েক বছরে রীতিমতো সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের মানুষ। তাই তো সাধারণ্যের মধ্যে ভারত নিয়ে রয়েছে চাপা ক্ষোভ, বিদ্বেষী মনোভাব। পথে-ঘাটেই মিলছে তার উদাহরণ। এসব কিছুই অবশ্য বিশ^ রাজনীতির বিষয়বস্তু। এর সঙ্গে খেলার যোগ একেবারেই চলে না। তারপরও খেলার মাঠে আজ সেই ভারতের বিপক্ষেই দাঁড়াবে নেপালবাসী। বিরাটনগরের শহিদ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে আজ ভারতের বিপক্ষ দল বাংলাদেশের প্রতি তাদের থাকছে অকুণ্ঠ সমর্থন।

হুট করে বাংলাদেশ সমর্থকে পরিণত হওয়াটাকে ওপরের কথাগুলোর সঙ্গে মেলাতে যাবেন না। আজ আসলে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের সমর্থন পাবে অন্য কারণেই। আজকের অন্য সেমিফাইনালে নেপাল খেলবে দুর্বল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বড় ব্যবধানে জয়টা তাই অনুমেয়ই। সেমিফাইনালের লাইনআপ নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে মুখে না বললেও নেপালের কোচ-খেলোয়াড়দের ভাবনা শুধু ফাইনালকে ঘিরেই। সেখানে তারা খুব করে চাইছে ভারত নামের প্রবল প্রতিপক্ষকে এড়াতে। এর আগে যে এই ফাইনাল মঞ্চেই তিনবার ভারতের কাছে পরাভূত হতে হয়েছিল নেপালকে।

এবারের নেপাল দলটিকে অনেকেই বলছে ভারতের চেয়েও শক্তিশালী। কিন্তু ফাইনালের মহামঞ্চে নেপাল কখনই পারেনি নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে। তাই আজ বাংলাদেশকে বাইরে থেকে সমর্থন দিচ্ছে নেপাল যাতে ফাইনালে তারা পায় অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ। কাঠমান্ডুভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্টের সাংবাদিক প্রজ্জল ওলি বললেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ ভারতকে বিদায় করে দিক। তাহলে এই আসর পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন।’ পেশাগত দিক থেকে নিরপেক্ষ থাকতেই মুখে আসল সত্যটা বললেন না এই সাংবাদিক। তবে মনে মনে তিনিও চাইছেন ফাইনালে নেপাল পাক সহজ প্রতিপক্ষ। বিরাটনগরের বাস টার্মিনালের পাশেই একটি মনোহরি দোকান চালান অর্জুন মাইনালি। তিনি অবশ্য ভারতবিদ্বেষ থেকেই চাইছেন বাংলাদেশের জয়, ‘ভারত আমাদের অনেক ভুগিয়েছে গত কয়েক বছর। তারা ফাইনালে উঠতে না পারলে আমাদের আসন্ন হলি উৎসবটা বেশ জমবে।’

নেপালজুড়ে এখন চলছে আগামীকালের হলি উৎসবের প্রস্তুতি। বিরাটনগরে আজ নেপাল আর বাংলাদেশের জয়ে সেই উৎসবের রংটা হবে আরও রঙিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত