ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের নিন্দায় জাতিসংঘে একটি রেজুলেশন প্রস্তাব করেছিল নিউজিল্যান্ড। ২০১৬ সালের শেষের দিকের ওই রেজুলেশনকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ শামিল বলে আখ্যায়িত করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলার পর প্রায় দুই বছর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি ফের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে।
ইহুদি সংবাদমাধ্যম সূত্রে গার্ডিয়ান জানায়, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা ওই রেজুলেশনের কো-স্পন্সর ছিল ওয়েলিংটন।
রেজুলেশনের প্রস্তাব আনার আগে কিউই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারি ম্যাকলিকে ফোন দেন নেতানিয়াহু। তিনি ম্যাকলিকে বলেন, এটি উত্থাপন না করতে ও সমর্থন না দিতে আপনাকে অনুরোধ করছি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনি যদি এ রেজুলেশন আনেন তাহলে আমরা মনে করব, এটি যুদ্ধের ঘোষণা। এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ফাটল ধরবে এবং আমরা ওয়েলিংটন থেকে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে জেরুজালেমে ফিরিয়ে নেব।”
ইহুদি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাকলি বলেছিলেন, “এই রেজুলেশন আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতিরই প্রতিফলন। এটি নিয়ে আমাদের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”
এক পশ্চিমা কূটনীতিক গার্ডিয়ানকে নিশ্চিত করেন যে, দুজনের মধ্যে ওই আলাপ ছিল অত্যন্ত ‘কর্কশ’। তবে এ আলাপ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই বলেনি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারৎজ।
এদিকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জেরুজালেমে নিযুক্ত কিউই রাষ্ট্রদূত জোনাথন কুরকে ফোনে এই বলে সতর্ক করেছিলেন, এই রেজুলেশন ভোটাভুটি পর্যায়ে গেলে ওয়েলিংটনে ইসরায়েল তার দূতাবাস বন্ধ করে দেবে।
ওইসময় জাতিসংঘে রেজুলেশন প্রস্তাবসহ আন্তর্জাতিক চাপের ফলে নতুন করে বসতি স্থাপন থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেখা গিয়েছিল। দখলকৃত পশ্চিম জেরুজালেমে ৬০০ নতুন বসতি স্থাপনের এজেন্ডা থেকে আচমকা সরে আসে দখলদার দেশটি। যদিও পরের বছরগুলোতে সেটা লাফিয়ে বেড়েছে।
