আবরার আহমেদ চৌধুরী হতে চেয়েছিলেন বিসিএস ক্যাডার। দেশের সেবা করারই তার উদ্দেশ্য ছিলো। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ঘাতক বাস কেড়ে নিল তার প্রাণ।
মঙ্গলবার রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাসচাপায় নিহত হন আবরার। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার সহপাঠীরা জানান, অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন আবরার। বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সাধারণ জ্ঞানের কুইজ প্রতিযোগিতায় সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। এ বছরই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন। ৬ জানুয়ারি থেকে তার ক্লাস শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে প্রতিদিন প্রগতি সরণির বসুন্ধরা গেট থেকে বিইউপির নিজস্ব বাসে ক্লাসে যেতেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে বাসে উঠতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান ফটকের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় সু-প্রভাত নামের দুটি বাসের অসম প্রতিযোগিতার মাঝে পড়ে প্রাণ দেন আবরার।
তার মৃত্যু পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আবরার পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য সৃজনশীল কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন আবরার। সদা হাস্যোজ্জ্বল আবরার অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশনার পদে চাকরির প্রিলিমিনারি পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। আবরার সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
আবদুল কাদের খান নামের এক সহপাঠী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আবরার ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। বিভাগের পড়ালেখায় তার মতো মনযোগী কেউ নেই। পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও তার পারদর্শিতা ছিলো। গত মাসে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতাতে সে প্রথম স্থান অধিকার করে। তার স্বপ্ন ছিলো বিসিএস ক্যাডার হওয়ার, দেশের সেবা করার।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশনার পদে চাকরির জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেয় আবরার। তবে ওই পরীক্ষার রেজাল্ট এখনো হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুনিম বলেন, প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যে প্রগতি সরণির বসুন্ধরা গেটের ঠিক বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য অপেক্ষা করত আবরার। ৭টা ২০ মিনিটের দিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ওখানে আসত। মঙ্গলবারও যথা সময়ে পৌঁছায়।
‘কিন্তু আবরার সেখানে উপস্থিত ছিল না। রাস্তার বিপরীত লেনের পাশে জটলা দেখে আমরা কয়েকজন এগিয়ে যাই। পরে দেখতে পাই আবরারকে রক্তাক্ত অবস্থায় তুলছে পথচারীরা। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আবরার শরীরে কোনো আঘাত ছিলো না। শুধু মাথার ওপর দিয়ে বাসের চাকা উঠে যায়। মগজ রাস্তার উপর ছিটিয়ে ছিল। বীভৎস লাগছিল ওকে।’
