সোনারগাঁয়ে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ৬ পুলিশসহ আহত ১৫

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ১১:২৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক মৃত্যুর গুজবে বিক্ষোভ করেছে ওই কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। পুলিশ পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৬ পুলিশ সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ত্রিপুরদী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে চৈতি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান চৈতি নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) খোরশেদ আলম, সোনারগাঁও থানা পরিদর্শক আলমগীর হোসেন, উপপরিদর্শক তানভীর হাসান, আব্দুল হাসান, নাজমুল হাসান, মাসুদ রানা, হাসান সহ শিল্প পুলিশের কনস্টেবল রুবেল ও জুলহাস। তবে আহত শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক কোন নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে তাদের কারখানার ভেতর ও স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে  চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পুলিশ ও শ্রমিকেরা জানান, দুপুরে রিনা আক্তার নামে কারখানার সুইং সেকশনের এক শ্রমিক টয়লেটে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে দেখতে গিয়ে শেফালি বেগম ও নাজমা আক্তার নামে আরো দুই শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে যান।

পরে মালিকপক্ষের লোকজন তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে তিন নারী শ্রমিক মারা গেছে বলে কারখানায় গুজব ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করে।

পরিস্থিত শান্ত করতে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিলেও তারা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ফের বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করে ৫/৬টি যানবাহন ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে। এতে ৬ পুলিশ সদস্য সহ অন্তত ১৫জন শ্রমিক আহত হন।

এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে ১০কিলোমিটার এলাকায় আধঘণ্টা যানজট থাকে। পরে পুলিশের সহায়তায় যান চলাচল শুরু হয়।

চৈতি নিট কম্পোজিট কারখানার উপ-মহা-ব্যবস্থাপক বদরুল আলম জানান, কারখানায় একজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সে সুস্থ আছে। তবে সেই শ্রমিক মারা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে ভাঙচুর চালিয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আহত পুলিশ কর্মকর্তা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ অঞ্চল) খোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেও শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর হামলা করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও কয়েকটি টিয়ারশেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত