ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরদিনই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে আবরার ফুটওভারব্রিজের। রাজধানীর প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়কে নির্মিত হচ্ছে ওভারব্রিজটি। এখানেই দুদিন আগে বাসচাপায় নিহত হয়েছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরী (২০)।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, আবরার যেখানে নিহত হন তার থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরেই নির্মাণ করা হচ্ছে এ ফুটওভারব্রিজ। দ্রুত চলছে নির্মাণকাজ। বন্ধ রাখা হয়েছে জোয়ার সাহারা বাজারের দিকে যাওয়ার সড়কটি। সেখানে ওভারব্রিজের পাইলিংয়ের কাজ চলছে।
গত মঙ্গলবার সুপ্রভাত পরিবহনের বেপরোয়া একটি বাস জেব্রাক্রসিংয়ের ওপরই চাপা দেয় আবরারকে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যুর পর বিইউপির শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে আবরারের নামে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেন। পরদিন বুধবার সকালে আবরারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফ আহাম্মেদ চৌধুরীর পক্ষে ফুটওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মেয়র। ভিত্তিপ্রস্তরে উদ্বোধক হিসেবে আবরারের বাবার নাম উল্লেখ করা আছে। এটি নির্মাণ করছে ডিএনসিসি।
সেদিন ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে মেয়র বলেছিলেন, ‘আমি আবরারের বাবা ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। সেখানে না গেলে বোঝা যাবে না যে এটি কতটা হৃদয়বিদারক ঘটনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে এ ব্রিজের কাজ শেষ হবে। আমরা চাই রাস্তায় আর যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে অনাকাক্সিক্ষত জীবন দিতে না হয়। অতি জরুরিভিত্তিতে যেসব স্থানে ফুটওভারব্রিজ দরকার, সেটা চিহ্নিত করতে ডিএমপিকে অনুরোধ করছি।’ গত বছরের ২৯ জুলাই শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহতের পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন আবরারও। প্রায় সাত মাস পর এই সড়কেই আবরারের মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা।
