লক্ষ্য গ্রাম্য চিকিৎসক

খুলনায় সাংবাদিক, ডিবি পুলিশের নামে চাঁদাবাজি

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ১০:৩২ পিএম

খুলনার বিভিন্ন উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগী শাখা ‘সিআইএম’ এবং ‘বাংলাদেশের চৌকস সাংবাদিক’ নামের প্রতারক চক্র গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে তারা এ কাজ করে আসছে। প্রতারিত হওয়া অধিকাংশ চিকিৎসক প্রশাসনের ভয়ে ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে মুখ খুলতে চাইছেন না।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকরা জানান, এই চক্রটি উপজেলার গ্রাম্য অ্যালোপ্যাথ ও হোমিওপ্যাথ চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছে। তাদের দলে দুই থেকে আটজন পর্যন্ত সদস্য থাকে। কখনো তারা মোটরসাইকেলে আবার কখনো ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে চলাচল করে। প্রতারকরা চিকিৎসকদের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের খুলনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিআইএম এবং সাংবাদিক বলে পরিচয় দেয়। এরপর তারা চিকিৎসকদের সনদপত্র দেখতে চায়। সেগুলো দেখে তারা নানা রকম মন্তব্য করে।

প্রতারকরা কখনো বলে, এটা নকল সনদ। আবার কখনো বলছে দোকানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্পিরিট রয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা তো চিকিৎসক না। কীভাবে আপনারা চিকিৎসা দিচ্ছেন। আপনার ওষুধের মান ভালো না। দোকানের কোনো লাইসেন্স নেই। চিকিৎসক হওয়ার কোনো যোগ্যতা আপনার নেই। আপনাকে জরিমানা দিতে হবে। তা না হলে মামলা করা হবে। রিমান্ডে নেওয়া হবে। জরিমানা না দিলে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। ওইসব চিকিৎসক ভয়ে ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে যা পারছেন তা দিয়ে দিচ্ছেন। বাকি টাকা পরে পরিশোধের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া বাজারের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক পংকজ বিশ্বাস বলেন, কয়েক দিন আগে দুপুরের দিকে দুজন লোক আসে। তারা গোয়েন্দা পুলিশের সিআইএমের লোক হিসেবে পরিচয় দেয়। আমার ঘরে প্রচুর পরিমাণে স্পিরিট রয়েছে এমন অভিযোগ করে। আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানায়।

উপজেলার চুকনগর বাজার এলাকার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক মো. রউফ বলেন, আমার চিকিৎসক সনদ দেখে বলে এটা নকল। আমি চ্যালেঞ্জ করলে আমাকে পুলিশে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। মানসম্মান রক্ষায় টাকা দিয়ে দিই। 

জেলার ফুলতলা উপজেলা এলাকার অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার দোকানে এসেছিল। আমি ৭ হাজার টাকা দিয়েছি। অনেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। জানা মতে আশপাশের উপজেলায় প্রায় ১৫ দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে। যাওয়ার সময় সিআইএম খুলনার প্রধান মি. রমজান পরিচয় দিয়ে একটি ফোন নম্বর রেখে যায়।

পরিচয় জানতে মি. রমজানের দেওয়া মুঠোফোনে কল করা হয়। মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমরা পুলিশের গোয়েন্দা সহযোগী শাখার সিআইএমের লোক। সরকার সারা দেশের চৌকস সাংবাদিক নিয়ে এই শাখাটি গঠন করেছে।

খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, এরকম কোনো শাখা আমাদের নেই। সব শুনে মনে হচ্ছে এরা একটি প্রতারক চক্র। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত