নির্বাচনী বিরোধে বাঘাইছড়িতে সাত খুন: মানবাধিকার কমিশন

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ১১:৪৬ পিএম

‘নির্বাচনী বিরোধ’ এর জের ধরে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সাত খুনের ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও নিরীক্ষা) আল মাহমুদ ফয়জুর কবির। সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর পর গাড়িবহরে বিজিবির সদস্যদের এনকাউন্টারে না যাওয়ার ঘটনা দুঃখজনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি শুক্রবার দুপুরে বাঘাইছড়ি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাঘাইছড়ি সদরে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনায় আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি গাড়িবহরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও ওসির সঙ্গেও কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা শাহ পরানও উপস্থিত ছিলেন।

পরে, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এখানে যে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের বিরোধের প্রভাব নির্বাচনের ওপর পড়েছে। যেহেতু সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্য ছিল প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ নির্বাচনে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তিনি আরও বলেন, তিনটা চাঁদের গাড়ি করে তারা আসছিলেন, তাদের নিরাপত্তায় বিজিবির একটি গাড়ি থাকার পরও তারা কোনও এনকাউন্টারে যায়নি এটা আমার কাছে দুঃখজনক মনে হয়েছে। তারা প্রোটেকশন দিতে পারত।

এদিকে শুক্রবার সকালে বাঘাইছড়ি ঘটনায় নিহত চার ভিডিপি সদস্যের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করেছে জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিচালক মো. শামসুল আলম জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়ে প্রত্যেক পরিবারকে প্রতিশ্রুত ৫ লাখ টাকার মধ্যে নগদ ১ লাখ টাকা তুলে দেন। নিহত মিহির কান্তি দত্ত, বিলকিস আক্তার, জাহানারা বেগম ও আল আমিনের পরিবারের হাতে এসব অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে বাঘাইছড়িতে সাত নির্বাচন কর্মীকে ব্রাশফায়ার করে হত্যার ঘটনায় নিহত আনসার কমান্ডারের খোয়া যাওয়া রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার চার দিন পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টায় ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে সড়কের পাশ থেকে খোয়া যাওয়া রাইফেলটি উদ্ধার হয়। তল্লাশি অভিযানের সময় এ খোয়া যাওয়া অস্ত্রটি উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা আনসার কর্মকর্তা আবুল বাসার।

অন্যদিকে, বাঘাইছড়ি ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- রওশন আরা বেগম ও জ্যোৎস্না চাকমা।

এদিকে ঘটনার পর কম্বিং অপারেশন পরিচালনা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি যৌথ বাহিনী। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানালেন জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর কবির।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত