আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী তিনজনের একটি প্যানেল গঠন করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যানের ওই প্যানেল ছাড়া আর কেউ প্রচারণা করতে পারছে না বলে অভিযোগ করা হয়।
শনিবার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে এই হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন।
অভিযোগকারী প্রার্থীরা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. তাবিবুর কাদির তমাল (প্রতীক আনারস), ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হারেজ (প্রতীক তালা), অ্যাডভোকেট স্বপন ভূঁইয়া (প্রতীক টিয়া পাখি), মোতাহার হোসেন নাদিম (প্রতীক টিউবওয়েল), নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাসরিন আক্তার চম্পা (প্রতীক ফুটবল), হ্যাপি বেগম (প্রতীক সেলাই মেশিন), শায়লা তাহসিন (প্রতীক কলস)।
সংবাদ সম্মেলনে সকল প্রার্থীদের পক্ষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. তাবিবুর কাদির তমাল অভিযোগ করে বলেন, আগামী ৩১ মার্চ রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কোন সুষ্ঠু পরিবেশ নাই। এই নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর হস্তক্ষেপে ৩ জনের একটি প্যানেল ঘোষণা করেছে। এই প্যানেলে রয়েছে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, যার নির্বাচনী প্রতীক নৌকা, ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোহেল আহম্মেদ ভূঁইয়া, যার নির্বাচনী প্রতীক চশমা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোসা. ফেরদৌসী আক্তার নীলা যার নির্বাচনী প্রতীক হাস।
তাবিবুল কাদির তমাল বলেন, এই ৩ জনের ব্যতিরেকে বাকি প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার, গণসংযোগ ও মাইকিং করার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। এই ৩ জন ছাড়া অন্য কোন প্রার্থী কোন প্রচার প্রচারণা করতে পারছে না। তাদের প্রকাশ্যে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি, ভয়ভীতি ও নির্বাচনী প্রচার কাজে বাধাসহ কর্মী ও সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও তারাবো পৌরসভা মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসা. হ্যাপি বেগম বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। কিন্তু আমাদের নির্বাচনে কোন রকমের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী গোপন বৈঠকের মাধ্যমে ৩ জনের প্যানেলকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তিনি উন্নয়নকাজের বরাদ্দের কথা বলে প্রার্থীদের দিয়ে বেপরোয়াভাবে ভোট চাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আমরা কোন আস্থা রাখতে পারছি না।
এ সময় তারা কয়েকটি দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর কোন হস্তক্ষেপ চলবে না, ৩ জনের প্যানেল ভেঙে দিয়ে সকল প্রার্থীর জন্য সমান প্রচারণার সুযোগ, সকল প্রার্থীকে সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুব্যবস্থা করা ও প্রশাসনকে সকল প্রার্থীকে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
