ইঁদুরে আছে মানুষের নতুন কৃমি ‘গনজাইলোনেম’

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ০৭:১৯ পিএম

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইঁদুরের মধ্যে মানুষের অন্তঃপরজীবী (কৃমি) গনজাইলোনেমা শনাক্ত করতে সফল হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড . উদয় কুমার মহন্তের নেতৃত্বে একদল গবেষক।

মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অমৃত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এস.এম. আব্দুল্লাহ দীর্ঘ এক বছর ধরে এই গবেষণা চালান ।

গবেষক দল ঢাকা শহরের বিভিন্ন ঘনবসতি তেজগাঁও, আগারগাঁও, তালতলা, মোহাম্মদপুর কাঁচা বাজার, শেরেবাংলা নগর এসব এলাকার বস্তি, মুদির দোকান, শাকসবজির দোকান, বাসাবাড়ি থেকে ইঁদুর সংগ্রহ করেন। এসব ইঁদুর মানুষে রোগ সৃষ্টি করে এমন কৃমি বহন করে।

গবেষক দল জানান, এই কাজের প্রধান লক্ষ্য ছিল, ইঁদুরের মাধ্যমে যেসব অপরজীবী (কৃমি) মানুষে রোগ ছড়ায় সেগুলোকে শনাক্ত করা এবং তাদের বিস্তার নির্ণয় করা।

এই কাজের জন্য তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন ঘনবসতি এলাকা থেকে ৭০টি ইঁদুর সংগ্রহ করে যার মধ্যে ২০টি ধাড়ি ইঁদুর, ১৫টি কালো ইঁদুর, ২৫টিম বাদামি ইঁদুর এবং ১০টি নেংটি ইঁদুর ছিল। উক্ত ৭০টি ইঁদুরের মধ্যে ৫০টি (৭১.৪২%) ইঁদুর বিভিন্ন অপরজীবী (কৃমি) দ্বারা আক্রান্ত ।

বিভিন্ন ঘনবসতি পূর্ণ বস্তি এলাকা থেকে (৮৫%) সবচেয়ে বেশি অপরজীবী (কৃমি) দ্বারা আক্রান্ত ইঁদুর পাওয়া গেছে। তারপর রয়েছে মুদির দোকান (৭৫%), বাসাবাড়ি (৬৬.৬৬%), ধানখেত(৫৩.৩৩%)।

সংগৃহীত কৃমিগুলোর মধ্যে ৮০% মানুষকে সংক্রমণ করতে সক্ষম বলে জানান তারা। তা ছাড়া ঘনবসতি এলাকায় যে ধরনের ইঁদুর থাকে তাদের মধ্য ৫ ধরনের কৃমি পাওয়া যায়। তার মধ্যে গনজাইলোনেমা কৃমি দেশে এই প্রথম শনাক্ত করা হয়েছে।

তারা আরও জানান,  এসব কৃমির সংক্রমণে মানুষের লালা ক্ষরণ, দাঁতের ব্যথা,অন্ননালি প্রদাহ,গলাবিল প্রদাহ,গ্যাস্ট্রিক আলসার,স্নায়বিক বিকলতা লক্ষণ দেখা দেয়। টেইনিয়া টেইনিফরমিস দ্বারা আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, খিঁচুনি, স্ট্রোক, স্থায়ী ব্রেইন ড্যামেজ, মাংস পেশিতে ব্যথা, আচরণগত অসংগতি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয় ।

রোগ প্রতিরোধে সাধারণ জনগণের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষক অধ্যাপক  উদয় কুমার মহন্ত পরামর্শ দিয়ে বলেন, ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত এবং সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে ইঁদুর দ্বারা আক্রান্ত রোগ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে অতি চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে ।

ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মধ্যে দুটি সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) কর্তৃপক্ষ জনসচেতনতা বাড়াতে যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত