থাইল্যান্ডে ক্যু-পরবর্তী প্রথম সাধারণ নির্বাচন

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ০৯:৫৯ পিএম

২০১৪ সালে সামরিক বাহিনীর ক্যুর পর এবারই প্রথম থাইল্যান্ডে স্বাধীন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল রবিবার সকাল থেকেই দেশটির ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করেন বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

নির্বাচনে দেশটির প্রায় পাঁচ কোটি ১৪ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। এবার মোট ভোটারের একটা বড় অংশই তরুণ। দেশজুড়ে ৯৩টি পোলিং স্টেশনে ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

নির্বাচনের ঠিক আগে দেশটির রাজা ভোটারদের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ‘ভালো’ নেতা নির্বাচন করতে বলেন। থাইল্যান্ডের সংবিধান রাজতন্ত্রকে সমর্থন করে কিন্তু তা রাজনীতির বাইরে। কিন্তু রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অনেক দিন ধরেই আছে। সেনাবাহিনীর আমলে করা নতুন সংবিধানেই এবারের ভোট হচ্ছে। যে কারণে ফল যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীরই প্রভাব অক্ষুণœ থাকবে, বলছেন সমালোচকরা।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলোর মধ্যে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী অভিসিত ভেজাজিভা ও তরুণ টেলিকম ব্যবসায়ী থানাতর্ন জুয়ানগ্রুংরুয়াংকিতের ফিউচার ফরওয়ার্ড পার্টি। নির্বাচনে ভোটাররা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০ সদস্যকে নির্বাচিত করবেন। নতুন সংবিধান অনুযায়ী, সেনাবাহিনী উচ্চকক্ষ সিনেটের আড়াইশ সদস্যের মনোনয়ন দেবে। দুই কক্ষের সদস্যদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে নির্বাচিত হবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এবারের নির্বাচনকে মূলত বর্তমান জান্তা সরকার ও সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাসিত সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার অনুগতরা।

ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার সামরিক শাসকের দাগ মুছে নিজেকে নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেখতে চায়। তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, দেরি করে অনুমতি দেওয়ায় তাদের পক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠানো সম্ভব হবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন অসঙ্গতিপূর্ণ। এতে করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার নতুন ধাপে পৌঁছাতে পারে থাইল্যান্ড। ২০০৬ সালে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া থাকসিন ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে আদালত ঘোষিত দণ্ড এড়াতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এরপরও তার জনসমর্থন ব্যাপক, বিশেষ করে গ্রামীণ ও অসচ্ছল ভোটারদের মধ্যে থাকসিন এখনো বেশ প্রভাবশালী। ২০০১ সালের পর থেকে দেশটিতে হওয়া প্রায় সব নির্বাচনেই থাকসিন সমর্থিত দলগুলো বিজয়ী হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত