মোড়ে মোড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ১২:০৯ এএম

রাজশাহী মহানগরীর মোড়ে মোড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। অনুমোদন ছাড়াই বহু দোকানে এই ব্যবসা চলছে। রাস্তার ধারে যেনতেনভাবে ফেলে রাখা হচ্ছে সিলিন্ডার। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেই। এ ব্যাপারে মূল দায়িত্ব বিস্ফোরক পরিদপ্তরের হলেও তাদের কোনো তদারকি নেই।

রাজশাহী শহরে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ খুব সীমিত হওয়ায় অধিকাংশ মানুষের ভরসা সিলিন্ডার এলপি গ্যাস। শহরের বাইরেও সব জায়গায় সিলিন্ডার গ্যাস। ব্যাপক চাহিদা আর লাভের বিষয়টি মাথায় রেখে রাজশাহীজুড়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এর ব্যবসা। সময়ের সঙ্গে ডিলার যেমন বেড়েছে, সেই সঙ্গে নগরীর পানের দোকান, মুদির দোকান থেকে শুরু করে ছোট-বড় দোকানিরা খুলে বসেছে সিলিন্ডার ব্যবসা। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্দিষ্ট গুদামে না রেখে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় খোলা স্থানে রাখা হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার। রাস্তার পাশেই চলছে বিক্রি। বর্তমানে এই ব্যবসা নগরীর অলিগলিতেও পৌঁছে গেছে। আবাসিক এলাকাতেও যত্রতত্র এলপি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখা হচ্ছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব দোকানের বেশিরভাগ অনুমোদনহীন। যারা অনুমোদন নিয়েছে তারাও মানছে না নিয়মনীতি।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যমতে, রাজশাহীতে মাত্র ১০৬ জন অনুমোদিত ডিলার রয়েছেন। আরও ৪১ জন অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। অনুমোদন ছাড়া কতজন এলপি গ্যাসের ব্যবসা করছেন এই তথ্য নেই কারও কাছেই। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনুমোদনের সংখ্যার তুলনায় দ্বিগুণ ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা করছেন। এছাড়া অনুমোদিত ডিলাররাও নিয়ম ভেঙে একাধিক স্থানে দোকান খুলেছেন। অননুমোদিত ব্যক্তিদের কাছে পাইকারিভাবে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।

এলপি গ্যাসের পরিবেশক নগরীর নওদাপাড়া এলাকার শোভন এন্টারপ্রাইজের মালিক জারজিস কাদির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা মেনে লাইসেন্স নিয়ে টাকা খাটিয়েও এ ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। কারণ বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানি যার-তার কাছে সিলিন্ডার বিক্রির জন্য দিয়ে যাচ্ছে।’ লাইসেন্স ছাড়া ছোট দোকানপাটে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের দাবি জানান এ ব্যবসায়ী।

জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, ‘যত্রতত্র গ্যাস বিক্রি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের পক্ষে কাজ চলছে। সবাই যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সে জন্য পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’ রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়ে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা বিপজ্জনক। আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখাসহ যত্রতত্র বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি।’

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিদর্শক ড. মো. আসাদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, তারা সম্প্রতি জরিপ শুরু করেছেন। কারা অনুমোদিত আর কারা অবৈধভাবে ব্যবসা করছে এর তালিকা হচ্ছে। অনুমোদন নিয়ে নিয়ম ভাঙাও পর্যবেক্ষণ হচ্ছে। জরিপের তথ্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে দেওয়া হবে। তারাই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত