বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার নিয়োগ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:২৬ এএম

সরকারের কাছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা অনেক। সে লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে, বিএসইসির কমিশনে চার সদস্য থাকলেও একজনের নিয়োগ এখনো হয়নি। চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসুদ খান। আর কমিশনার হিসেবে ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের এমডি নাফিজ-আল-তারিক, আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান এবং আইনজীবী নাহিদ মাহতাব। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন।

এর আগে গতকাল বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং চার কমিশনার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএসইসির নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংগত কারণেই নতুন কমিশন গঠন হয়েছে বলে মনে করি। কারণ একটি নির্বাচিত সরকার তার সংস্থা পরিচালনায় পছন্দের যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনীত করবে, এটা স্বাভাবিক। তবে আগের কমিশনকে ব্যর্থও বলব না। তবে তারা শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বা আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ফলে নতুন কমিশনের কাছে, বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা অনেক। আমি মনে করি যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা অত্যন্ত বিজ্ঞ এবং যে যার জায়গায় স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহি চর্চা করা মানুষ। আশা করছি, পুঁজিবাজারকে কার্যকর ও সময় উপযোগী এবং গতিশীল বাজারে রূপদানে তারা ভূমিকা রাখবেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিয়ে নতুন কমিশন পূর্বের রাজনৈতিক খবরদারি, দাদাগিরি ও অনিয়ম থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে একটি সুন্দর সুশৃঙ্খল পুঁজিবাজার উপহার দেবেন। যা অর্থনীতি ব্যাংক নির্ভরতা থেকে পুঁজিবাজার নির্ভর করে তুলবে।

স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুর ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। সরকার যোগ্যদের নিয়োগ দিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা হলো একটি কার্যকর পুঁজিবাজার গড়ে ওঠা। আমি মনে করি, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার একটাই প্রত্যাশা, যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও কারসাজিমুক্ত পুঁজি সংগ্রহের উৎস হিসেবে গড়ে ওঠে।

এদিকে পদত্যাগের আগে সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা অত্যন্ত উত্তাল সময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম এবং তাৎক্ষণিকভাবে আইনি কাঠামো এবং বাজার শৃঙ্খলার এক দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার শুরু করেছিলাম।

অপরদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, নবনিযুক্ত কমিশন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বিগত বছরগুলোতে পুঁজিবাজার প্রবৃদ্ধি ও আশাবাদের অনেক সময় অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে এমন কিছু চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল করেছে, ভালো মানের কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসতে নিরুৎসাহিত করেছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমিয়েছে এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদানকে সীমিত করেছে। তিনি প্রত্যাশা করছেন, নতুন কমিশন বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন ও অংশীজনদের সহযোগিতায় পুঁজিবাজারের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত