রবিচন্দ্রন অশ্বিন কি ঠিক করেছেন? সোমবার আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটসম্যান জস বাটলারকে ‘মানকাড’ আউট করেছেন বরিচন্দ্রন অশ্বিন। কিন্তু কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব অধিনায়ক যেভাবে সুযোগটি নিয়েছেন সেটিকে ক্রিকেটের চেতনা বিরোধী বলছেন অনেকে।
পুরো ক্রিকেট বিশ্বেই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কেউ কেউ অবশ্য অশ্বিনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। অশ্বিন নিজে বলেছেন, ক্রিকেটের আইনের মধ্যেই থেকেই তিনি কাজটি করেছেন।
এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই মুখ খুলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। সংস্থাটির একজন অফিশিয়াল অশ্বিনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, অধিনায়ককে সব সময় ক্রিকেটের চেতনা মানতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে ম্যাচ অফিশিয়ালদের দায়িত্বের গাফিলতি বলেও উল্লেখ করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেই কর্তা।
ভারতের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে বিসিসিআইয়ের সিনিয়র অফিশিয়াল বলেন, শুধুমাত্র ক্রিকেটীয় স্কিলই ব্যাটসম্যানকে আউটের জন্য ব্যবহার করা উচিত, সেটিই খেলাটি দেখার এবং শেখার ক্ষেত্রে সঠিক বার্তা দেয়।
‘মানকাড’ আউট বেশির ভাগই সময়ই বিতর্কের জন্ম দেয়। ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার ভিনু মানকড়ের নামে এই আউটের নাম করণ। কোনো বোলার বল ছাড়ার আগেই যদি ননস্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যান বেরিয়ে যায় তবে বোলার স্টাম্প ভেঙে দিলে আউট হবে তিনি।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে ভদ্রতা বসত বোলার ব্যাটসম্যানকে একবার সতর্ক করবেন সেটিই নিয়ম। আবার ব্যাটসম্যান আসলে এ থেকে বিশেষ সুবিধা নিচ্ছে কিনা সেটিও বিষয়। বাটলার অবশ্য বিশেষ সুবিধা গ্রহণের জন্য নয়, খেলার গতিতেই অমন করেছেন।
বিসিসিআইয়ের সেই কর্তা তাই বলছেন এভাবে, ‘‘ম্যাচ অফিশিয়ালরা এই বিষয়ে তাদের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সঠিক আইন প্রয়োগ হলে বাটলারের নট আউট থাকা উচিত ছিল। অশ্বিনকে আইনটি বুঝতে হবে এবং ক্রিকেটের স্পিরিটের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’’
‘‘ক্রিকেটীয় স্কিল দিয়েই একজন খেলোয়াড় আরেকজনকে বোকা বানাতে পারে। প্রতারণা দিয়ে নয়। যদি ব্যাটসম্যান সুবিধা নিয়ে থাকে তবে সেটা সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে, ঠিক জ্যান্টলম্যানের মতো। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভালো, কিন্তু ভদ্রতাও বজায় রাখতে হবে।’’
এদিকে বিসিসিআইয়ের অন্য এক কর্তা পিটিআইকে দেওয়া বক্তব্যে অশ্বিনের পক্ষেই কথা বলেছেন। অশ্বিনকে ক্রিকেটের স্পিরিট শেখানোর কিছু নেই বলেও জানান তিনি। ক্রিকেটের নিয়মে যা আছে অশ্বিন তাই করেছেন বলে মনে করেন তিনি।
