বিশ্বকাপে তৈরিদের চান মাশরাফী

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ০৩:২০ এএম

‘বিশ্বকাপ পুরোপুরি মানসিক খেলা।’ অনেক কথার মাঝে এই কথাটা বলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। আর ঘুরে-ফিরে যা আসে তার সারমর্ম, বিশ্বকাপ আসলে তাদেরই চায় যারা মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরটিতে পারফর্ম করতে তৈরি। সেই তৈরি ক্রিকেটারদের বাইরে ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলে আর কাউকে প্রয়োজন নেই ওয়ানডে অধিনায়কের। মানে নতুন কাউকে, এমনকি চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খুব ভালো করে ফেলা জাতীয় দলে অনিয়মিত কাউকেও না।

‘আসলে আমি ঢাকা লিগ নিয়ে তেমন একটা ভাবি না। কারণ অনেকবার আমি দেখেছি যে এখানে মানুষ দিনের পর দিন ১০০ হাঁকিয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে সংগ্রাম করছে। কারণ উইকেট বলেন, সংকল্প বলেন, ক্রিকেটের অভিপ্রায় বলেন এগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাছাকাছি না।’ গতকাল একটি সুগন্ধি প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছা দূত হলেন মাশরাফী। মিরপুরের এক রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর কথোপকথনে বিশ্বকাপের প্রসঙ্গই আসে বেশি।

লিগ বা ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রসঙ্গজুড়ে মাশরাফী বলছিলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এখানে অনেকে রান করে ওখানে সংগ্রাম করে। আবার এখানে উইকেট পেয়ে ওখানে সংগ্রাম করছে। সুতরাং আমার কাছে মনে হয় মানসিকতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না এবং এটার সঙ্গে সে খেলায় নির্দিষ্টভাবে কী করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’ মাশরাফী জোর দিয়ে বললেন, ‘বিশ্বকাপ পুরোপুরি মানসিক খেলা। এই এক দেড় মাসে আপনি এখানে (ইনিংসে) ৫-৬ উইকেট পেয়েও ওখানে গিয়ে সংগ্রাম করতে পারেন। তাই মানসিকভাবে কতটা তৈরি সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশ দল এখন অনেকটা তৈরি। পারফরমার অনেক। প্রত্যেক জায়গায় নির্দিষ্ট ভূমিকা পালনের খেলোয়াড় এখন নিয়মিত। দল কী হতে পারে তার রূপরেখা বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের খেলা অনুসরণ করা একজন মনে মনে গড়ে নিতে পারেন। তাই দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ তিনি নন জানিয়েও মাশরাফী বলতে পারেন, ‘যে ১৫ জনই আসুক না কেন তারা পারফর্ম করে আসছে কি না সেটি বিষয় নয়। আমাদের মূল ফোকাস থাকবে আয়ারল্যান্ড সিরিজ এবং বিশ্বকাপে আমরা দল হিসেবে কেমন করছি সেটা।’ পার্থক্যটা বোঝাতে মাশরাফী বলেন, ‘এখানে অনেক উইকেট পেয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা সংগ্রাম করেছি। আবার এখানে খারাপ করেও দেখা গিয়েছে ওখানে গিয়ে আমরা ভালো করেছি। তাই আকাশ আর পাতাল ব্যবধান দুটি জায়গার মধ্যে।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দাবি ভিন্ন। মাশরাফীর কথাতে পরিষ্কার। ‘সুতরাং মানসিকভাবে প্রস্তুত মানে আপনিও প্রস্তুত। সেটাই আমি বোঝাতে চাইছি।’

ওয়ানডেতে এখন বিশ্বের যেকোনো দলের সামনে বড় হুমকি বাংলাদেশ। তবু ফিনিশিংয়ের সমস্যা কাটছে না দেখে একটু ঘাবড়ান মাশরাফী। ‘বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই জায়গাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এমন কিছু ম্যাচ আসবেই।’ বলছিলেন, ‘এটি নিয়ে আমরা অবশ্যই উদ্বিগ্ন এবং আমার বিশ্বাস, যে ভুলগুলো করেছি সেগুলো হয়তোবা কমাতে পারব।’

শেষে নয়, শুরুর দিকে লিটন কুমার দাসের কাছে মাশরাফীর অনেক চাওয়া। যার একটু পূরণ করতে পেরেছিলেন ভারতের বিপক্ষে গত বছরের এশিয়া কাপের ফাইনালে। দুবাইয়ে দল হারলেও ১২১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন।

‘লিটন কী মানের খেলোয়াড় সেটি হয়তো এক-দুটি ম্যাচে আমরা সম্প্রতি দেখতে পেরেছি। এশিয়া কাপ ফাইনালের কথা আমি বলছি।’ মাশরাফীর বিশ্বাস, ‘আমার কাছে মনে হয় সে ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এই সম্ভাবনা তার মধ্যে আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত