আইপিএলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের করা ‘মানকাড’ আউট বিতর্ক নিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব এখন তোলপাড়। ২০০৩ সালে ঠিক একই রকম সুযোগ পেয়ে তা গ্রহণ করেননি মোহাম্মদ রফিক। সেদিন উমর গুলকে ফিরিয়ে দিলে টেস্ট ম্যাচটাই জিতে যায় বাংলাদেশ। তবে ২০১৯ সালে দাঁড়িয়ে রফিক বলছেন, এখন হলে অশ্বিনের মতোই করতেন তিনি।
সোমবার রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটসম্যান জস বাটলারকে ‘মানকাড’ আউটের ফাঁদে ফেলেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব অধিনায়ক অশ্বিন। কিন্তু এর মাধ্যমে ক্রিকেটের স্পিরিট বিরোধী কাজ করেছেন বলে অনেক কিংবদন্তিই কাঠগড়ায় তুলে দিচ্ছেন অশ্বিনকে। অশ্বিনের পক্ষে বলার লোকও কম নেই। ভারতীয় স্পিনার নিজে বলছেন, আইন যখন আছে তখন ঠিক কাজটাই করেছেন তিনি।
অশ্বিনের এই ‘মানকাড’ বিতর্ক ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশের ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা মুলতান টেস্টের স্মৃতি। যে ম্যাচে অশ্বিনের মতো সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি মোহাম্মদ রফিক। উমর গুলকে শুধু সাবধান করে দিয়েছিলেন। সেদিন উমর গুলকে ‘মানকাড’ আউট করে ফিরিয়ে দিলে ওই টেস্টটা জিতে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। রফিক মহানুভবতা দেখিয়ে অবশ্য প্রশংসা কুড়ান।
আইপিএলে অশ্বিন সুযোগটি নেওয়ার পর রফিক ও কোর্টনি ওয়ালশের প্রসঙ্গ আনছেন অনেকে। বাংলাদেশের বর্তমান বোলিং কোচ ওয়ালশও ১৯৮৭ বিশ্বকাপে মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন সেলিম জাফরকে আউট না করে। ওই ম্যাচটাও হেরে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তবে মোহাম্মদ রফিক ২০১৯ সালে দাঁড়িয়ে অশ্বিনের পক্ষে কথা বলছেন। ২০০৩ সালে তিনি নিজে যেটি করেননি, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই। বরং তখন ঠিকই করেছেন বলে দাবি তার। আর ২০১৯ সালে অশ্বিনের কাজটাকেও বললেন শতভাগ সঠিক।
ছেলের বিয়ে, তাই বেশ ব্যস্ত সময় কাটছে রফিকের। সেই ব্যস্ততার মাঝেই বুধবার দেশ রূপান্তরকে মুঠোফোনে সময় দিলেন বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। প্রসঙ্গ সেই ‘মানকাড’ বিতর্ক।
স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে শেন ওয়ার্নদের মতো রফিক বলবেন অশ্বিনের বিপক্ষে। কিন্তু হলো উল্টো। প্রসঙ্গ তুললেই ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে রফিক বলে যান, ‘‘এখন তো নিয়ম করে দিয়েছে…। রান আউটের ক্ষেত্রে দেখেন এক আঙুলের ফাঁকের জন্য রান আউট হয়ে যায়। আপনি যদি ননস্ট্রাইক প্রান্তে এক হাত আগে বের হন, তার মানে এর জন্য অনেক সুবিধা পাচ্ছেন। যে কারণে একটা আইন করেছে। অশ্বিনের অবশ্যই এটা করার অধিকার আছে। আইন আছে বলেই তো ও সেটা করেছে। আইসিসি যখন আইন করেছে তখন আমি মনে করি এটা ফেয়ার।’’
রফিকের এই কথায় বিস্ময় জাগতেই পারে সবার। ২০০৩ সালে তাহলে এই সুযোগটি তিনি কেন নিলেন না সে প্রশ্নও আসছে। তবে রফিক এর উত্তরে নিজের পক্ষেই বলছেন, ‘‘তখন এই আউট নিয়ে কেউ মাথা ঘামাত না। সত্যি কথা কি রুলসের সবচেয়ে জঘন্য আউট ছিল এটা। হয়তো আমি সুযোগটা নিতে পারতাম। কিন্তু দেখতেন সবাই তখন বাংলাদেশকে নিয়ে গালি দিত।’’
অশ্বিনের সুযোগ নেওয়ায় একটা ভালো দিকও দেখছেন রফিক। বলছেন, ‘‘নিয়ম আমাদের সময়ও ছিল। কিন্তু কেউ করত না। এখনো ক্রিকেট দেখেন, নন স্ট্রাইকে যে থাকে সে দু-এক ইঞ্চি আগেই বের হয়ে যায়। আইন থাকলেও কিন্তু এটা বন্ধ হচ্ছে না। অশ্বিনের ঘটনার পর দেখবেন এখন আপনা আপনিই বন্ধ হবে তা। সবাই এ নিয়ে সজাগ হয়ে যাবে।’’
