ভণ্ড ওঝা’র চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ০৭:৩৩ পিএম

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রাহ্মণকচুরী গ্রামে এক ভণ্ড ওঝা’র (কবিরাজ) অপ চিকিৎসায় মো. হানিফ (১০) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

মৃত হানিফ ব্রাহ্মণকচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র। সে ওই গ্রামের মো. গোলাপ মিয়ার পুত্র বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর একাধিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের জমিতে হানিফ ঘাস কেটে নিজ বাড়িতে আসার সময় হঠাৎ পথে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

পরে এলাকাবাসী ও স্থানীয় রশিদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খবর পেয়ে হানিফকে ব্রাহ্মণকচুরী গ্রামের সালামের মোড়ে পল্লি চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেনের কাছে নিয়ে গেলে তিনি অবস্থার অবনতি দেখে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও হানিফের স্বজনেরা হাসপাতালে না নিয়ে বাড়ির পাশের ওঝা চান মিয়া মুন্সীর কাছে নিয়ে যায়। ওঝা রোগীকে দেখে জানান তাকে তো জাতি সাপে কেটেছে। এরপরই শুরু হয় ওঝার ঝাড়ফুঁক।

ওঝা চান মিয়া প্রথমে রোগীকে বাড়ির উঠানে বসিয়ে ভিজা গামছা দড়ি পাকিয়ে দুই পরত করে দড়ির মতো তৈরী করে এবং দুপুর আড়াইটা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রোগী শরীরে অনবরত আঘাত করতে থাকে।

সন্ধ্যা ৬ টার পর ওঝা চান মিয়া জানায় যে, রোগী আর ভাল হবে না, সে মারা গেছে। কারণ হিসাবে ওঝা জানায় তাকে সাপে কাটেনি। ভর দুপুরে বাড়ির পাশের জমিতে শয়তান তাকে থাবা মেরেছে।

ওঝার মৃত ঘোষণা করার পরপরেই শিশু হানিফের লাশ দাফন করার প্রস্তুতি নেয় স্বজনরা।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে আসলেই ওঝা পালিয়ে যায়। পুলিশ শিশু হানিফের লাশ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, সন্ধ্যার পর বিষয়টি অবগত হয়ে আমি পুলিশ পাঠিয়ে মৃত হানিফের লাশ হাসপাতালে নিয়ে আসি। কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করলে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি।

তিনি আরো জানান, সুরতহাল রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তবে সুরতহাল রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত