গাছে বেঁধে চুল কেটে গৃহবধূকে নির্যাতন

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ০৪:১০ এএম

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এক গৃহবধূর চুল কেটে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৪ মার্চ উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের গোলাপনগর গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই নারীকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিতা নিজেই বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় মামলা করেছেন। তবে পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ হাসপাতালের বিছানায় বসে নির্যাতনের ক্ষত আর মানসিক যন্ত্রণার বিবরণ দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, গত রবিবার বাড়িতে বসে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজন গল্প করছিলেন। তখন হঠাৎ করে তার স্বামীকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন শ্বশুরবাড়ির কয়েক সদস্য। এরপর মারধর করে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে বাড়ির সামনের একটি শজনেগাছের সঙ্গে বেঁধে ৫-৬ জন মিলে তার ওপর নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তার পরনের কাপড়ও ছিঁড়ে দেয় নির্যাতনকারীরা। পরে এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

তার ওপর চালানো বর্বর নির্যাতনে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এই গৃহবধূ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গোলাপনগর গ্রামের আলেজান নেছা বলেন, ‘বিকেলের দিকে হঠাৎ শোরগোল শুনে বাইরে এসে দেখি, বিলকিসকে (ছদ্মনাম) তার স্বামীর প্রথম স্ত্রী সাবিনাসহ ৫-৬ জন মিলে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে আনছে। বিলকিসের মাথার চুল কেটে এবং গায়ের পোশাক খুলে শজিনা গাছের সঙ্গে ওড়না ও রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। তারপর বেদম মারধর করে।’

হাসপাতালে নির্যাতনের শিকার এই নারীর স্বামী অভিযোগ করেন, তারা দুজন নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেছেন। আর তাদের এই বিয়ে মেনে নিতে না পারায় তার স্ত্রীকে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনিও এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রকিউর রহমান বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ ব্যথায় ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারছেন না। তার সুস্থ হয়ে উঠতে কয়েক দিন সময় লাগবে।’

ভেড়ামারা থানার ওসি শামীম খন্দকার বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। দ্রুতই তারা ধরা পড়বে বলে আশা করছি।’

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি মঞ্জুরী বেগম বলেন, ‘একজন গৃহবধূকে প্রকাশ্যে এমন মধ্যযুগীয় বর্বর নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নির্যাতিতাকে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত