নারায়ণগঞ্জ শহরে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান তরিকুল ইসলাম তারেক ওরফে নাজমুস সাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১ এর সদস্যরা।
শনিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায় র্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী শামশের উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে শহরের ১নং লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তরিকুল ইসলাম তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, লিফলেট, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, তরিকুল ইসলাম নাজমুস সাকিব ২০০৪ সালে বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানার মাধবকাঠি আহমাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে দাখিল, ২০০৬ সালে খুলনা সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা হতে আলিম, ঢাকার মদিনাতুল উলুম বালক কামিল মাদ্রাসা হতে ২০১০ সালে ফাজিল এবং ২০১৩ সালে কামিল পাস করে।
পাশাপাশি ২০১১ সালে আহসান উল্লাহ ইউনির্ভাসিটি সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে বিবিএ পাস করে এবং ২০১৩ সালে এমবিএতে অধ্যায়নরত থাকাকালীন সময়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির বছিলা মসজিদে বয়ান শুনতে যেত।
জসিম উদ্দিন রহমানির বয়ানের মাধ্যমে তার মাঝে উগ্রবাদী চেতনা জাগ্রত হয়। ঐ সময় একই মসজিদে জেএমবি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে তার পরিচয় হয়। আব্দুল্লাহ আল মামুন তৎকালিন জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ছিল।
তার মাধ্যমে ২০১৩ সালে সাকিব জেএমবিতে যোগদান করে। ২০১৬ সালে বাগেরহাট জেলা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আব্দুল্লাহ আল মামুন নিহত হলে তার স্থলে সাকিব দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। সাকিব দায়িত্ব পাওয়ার পর খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জেএমবির কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর তৎপরতা অব্যাহত রাখে।
সাকিবের মাধ্যমে র্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবুর রহমান উকিল, কাইয়ুম হাওলাদার, কাউছার বিন হালিম, হামদান বিন ফিরোজ, মামদুদুর রহমান মিশু, কামরুল, ইউনুছসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৫০জন সদস্য জেএমবিতে যোগ দেয়। এদের অধিকাংশ সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়।
তরিকুল ইসলাম নাজমুস সাকিব প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, প্রথমপর্যায়ে তিনি জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য ছিল এবং জামালপুরের যমুনা নদীর চর, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাসার ছাদসহ বিভিন্ন জায়গায় জেএমবির অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।
২০১৭ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা শুরু হলে সাকিব ঢাকায় এসে আত্মগোপন করে তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে জেএমবির দাওয়াতি কাজে মনোনিবেশ করে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠনকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করে।
বর্তমানে তিনি জেএমবির দাওয়াতি শাখার দক্ষিনাঞ্চলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানা যায়।
