মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত শিরিনের সাজায় কারাগারে রেখা খাতুন

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ০৮:২০ পিএম

যশোরে শিরিন বেগম নামে এক নারীকে মাদক মামলায় আদালত সাজা দেওয়ার পর তার পরিবর্তে রেখা খাতুন নামে অপর এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরিবারের দাবি, শিরিন লেবানন প্রবাসী। আর কারাবন্দী রেখা নির্দোষ।

কিন্তু পুলিশের দাবি, তারা শিরিনকেই গ্রেপ্তার করেছে। শিরিন নাম পরিবর্তন করে রেখা হয়েছেন। যদিও পুলিশের দাবি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছেন আইনজীবী। রেখা খাতুন বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে শিরিনের সাজা ভোগ করছেন।

সাজপ্রাপ্ত শিরিন বেগম যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া ইসমাইল কলোনি এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। আর রেখা খাতুন ঝিনাইদহ শহরের শহীদ মশিউর রহমান সড়কের বাসিন্দা লাল্টু শেখের মেয়ে ও যশোর শহরের ডালমিল এলাকার ভাড়াটিয়া। রেখা শহিদুলের সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী।

আদালতের পরোয়ানা তামিলকারী কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুজ্জামান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত শিরিন বেগমকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নাম পরিবর্তন করে রেখা খাতুন হিসেবে চলছেন। ঠিক আসামিকেই গ্রেপ্তার করেছি। আদালতে সেটি প্রমাণ করে দেব।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মার্চ কোতোয়ালি থানা পুলিশ শহরের রায়পাড়া এলাকা থেকে রেখা খাতুনকে শিরিন বেগম হিসেবে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একটি মাদক মামলায় (হেরোইন উদ্ধার) যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া ইসমাইল কলোনি এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শিরিন বেগমকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

এই মামলায় শিরিন বেগমের স্বামী শহিদুল ইসলামকে খালাস পায়। শিরিন বেগম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

গত ২০ মার্চ শহিদুল ইসলামের সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার রেখা খাতুন শিরিন বেগম নয়, দাবি করে ২৪মার্চ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী আব্দুস সহিদ। বিচারক শুনানি শেষে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দিয়েছে।

রেখা খাতুনের আইনজীবী আবদুস সহিদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি শিরিন বেগম বিদেশ রয়েছে। তার পরিবর্তে রেখা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে শিরিন দাবি করা হয়েছে। নিরপরাধ ব্যক্তি কারাগারে সাজা খাটছে। সাজাপ্রাপ্ত শিরিন বেগমের আইনজীবীও আমি ছিলাম। আমি নিশ্চিত রেখাকে শিরিন বেগম হিসেবে সোপর্দ করা হয়েছে। তাই আমি চ্যালেঞ্জ করেছি। এর স্বপক্ষে রেখার পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি আদালতে জমা দিয়েছি।

আইনজীবীর কথার সূত্র ধরে অনুসন্ধান করেছে এই প্রতিবেদক। শনিবার দুপুরে শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার ইসমাইল কলোনিতে শহিদুল ইসলামের খোঁজে যায়। প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সামাদ বলেন, শিরিন বেগম ও রেখা খাতুন একই ব্যক্তি নয়। দু’জন ভিন্ন ব্যক্তি। এদের একজন শিরিন বেগম শহিদুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী। অপর জন দ্বিতীয় স্ত্রী (তালাকপ্রাপ্ত) রেখা খাতুন। শিরিন বেগম বেশ কয়েক বছর ধরে বিদেশে আছে। আর রেখাকে শিরিন হিসেবে পুলিশ আটক করেছে।

শিরিন বেগমের স্বামী শহিদুল ইসলাম বলেন, শিরিন বেগম আমার প্রথম স্ত্রী। বর্তমানে সে লেবাননে থাকে। ওই মামলায় আমিও আসামি ছিলাম। আমি খালাস পেয়েছি। শিরিনের  সাজা হয়েছে। পুলিশ রেখা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে। রেখা খাতুন নির্দোষ।

তিনি আরও বলেন, রেখার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল ২০০৯ সালের দিকে। এরপর ২০১২ সালের দিকে ডিভোর্স হয়ে যায়। সে তার মত থাকতো চাঁচড়া ডালমিল এলাকায়। পুলিশ শিরিন বেগম দাবি করে, রেখা খাতুনকে আটক করেছে।

তবে শিরিন বেগম লেবাননে আছেন, এমন কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি শহিদুল ইসলাম। বলেন, খুঁজে দেখতে হবে।

রেখা খাতুনের প্রথম পক্ষের (প্রথম স্বামী) মেয়ে সাহিদা আক্তার রানী বলেন, মা সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার রাস্তা থেকে পুলিশ তাকে আটক করেছে। জানতে পেরেছি শিরিন বেগম নামে আমার মাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। প্রকৃত পক্ষে পুলিশ যাকে আটক করে নিয়ে গেছে সে আমার মা রেখা খাতুন। মা এখন জেলে আছে। কিছুই বুঝতে পারছি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত