দুই বছরে দুই অগ্নিকান্ড ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ০২:০০ এএম

‘ভাই, ভোরের আগুনে আমার তিনটা দোকানের প্রায় ৮০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। ছাই ছাড়া এখন আর কিছু দেখি না। যখন আমি খবর পাইলাম, তখন দেখি খালি ধোঁয়া। আর এখন সব ছাই। আগের বারের আগুনে আমার দোকানের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছিল। সরকার আইস্যা আমাদের মাথায় একবার হাতও বুলায়ে দেয়নি।’ রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে গতকাল শনিবারের ভোরের আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দেশ রূপান্তরের কাছে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ‘উপহার ক্রোকারিজ’ নামের একটি দোকানের ব্যবস্থাপক হাবিব।

পুড়ে যাওয়া দোকানে দাঁড়িয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগের বারের আগুনের ঘটনায় আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করার কথা থাকলেও সরকার আমাদের জন্য কিছুই করেনি। আমরা তাদের কাছে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। আমাদের মাথায় হাতও তারা বুলায় দেইনি। বস্তি পুড়লে কিছু ক্ষতিপূরণ দেয়; আমরা তা-ও পাইনি। পরে আমরা নিজেরাই ৫০ হাজার টাকা করে দিয়ে আবার দোকান ঘর তুলি। আর এবারের আগুনে সব পুড়ে ছাই; আমাদের কিছুই রক্ষা হয়নি।’

গতকালের আগুনে ৩০০ দোকান পুড়ে যায় বলে জানান ডিএনসিসি মূল মার্কেটের সভাপতি তালাল রিজভী। পুড়ে যাওয়া দোকানের একটি ভাই ভাই জেনারেল স্টোর। এর ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন পুড়ে যাওয়া দোকান দেখতে এসে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগুনে দোকানের মালের সাথে আমাদের কপালও পুড়ছে। আমার ছিল দুইটা দোকান। এখন দুই দোকানের যে মাল আছে, তা এখন কেজি দরে ২০০ টাকার মালও বেচা যাবে না’। তিনি আরও বলেন, ‘এবারের আগুনের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১.৫ কোটি টাকার বেশি।’ 

‘আমার কিছু বলার নাই। দুইবার পরপর আগুনে দোকানঘর পোড়ার পর আর কিছু বলার থাকে না। আগেরবারের আগুনের ঘটনায় আমরা কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি। আর এবারে যে কী পাব, কে জানে,’ কেঁদে কথাগুলো বলছিলেন মোরশেদ আলম নামের এক ব্যবসায়ী।

পুড়ে যাওয়া অন্যনা স্টোরের মীর হোসেন বলেন, ‘আমার দোকান তো আপনার সামনে। দেখেন সব পুড়ে ছাই। কিছুই আর নেই। পরপর দুইবার, আর বারবারেই আগুন লাগে ভোরে। কিছুই বুঝি না। আগেরবার সরকার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

সম্রাট হোসেন নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের চারটি দোকানে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগের ঘটনায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা আমরা পাইনি; বরং আমরা ধারদেনা করে ব্যবসায় শুরু করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় মেয়রের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, খুব তাড়াতাড়ি পুনর্বাসনসহ একটি স্থায়ী সমাধান করা হোক।’

গতকাল শনিবার ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ডিএনসিসি মার্কেটের কাঁচাবাজার অংশে আগুন লাগে। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ শুরু করে। সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি ভোরে একই মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেবার মার্কেটটির বহু দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। এরপর অস্থায়ীভাবে দোকান তৈরি করে মার্কেটটি চালু করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত