সরকারি ওষুধ ও সরঞ্জাম কিনে একটি ভবনের তিনটি তলার গুদামঘরে মজুদ করার অভিযোগে বগুড়ার এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। বগুড়া শহরের মফিজ পাগলা মোড়ে ওই গুদামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটকের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি জব্দকৃত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মূল্য কোটি টাকার ওপরে।
পুলিশের হাতে আটক মিজানুর রহমান রবিন (২৮) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চৌবাড়ি গ্রামের হাজী রফিকুল ইসলামের ছেলে।
তিনি বগুড়া পৌর এলাকার নারুলীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। গত দুই বছর ধরে তিনি মফিজ পাগলা মোড়ে সাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ৭তলা ভবনের তৃতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ভাড়া নিয়ে ওষুধের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। ইতোপূর্বে তিনি বগুড়ার পাইকারি ওষুধের মার্কেট হিসেবে পরিচিত মেরিনা মার্কেটে ওষুধের পাইকারি ব্যবসা করতেন।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, রবিন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে ওষুধের পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুদ আছে বলে থানা পুলিশ খবর পায়।
শনিবার রাতে ওই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসায়ী রবিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার গুদামে সরকারি ওষুধ ও সরঞ্জাম মজুদের বিষয়টি স্বীকার করেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে মফিজ পাগলা মোড়ের ওই গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পেয়ে তা জব্দ করা হয়। এ সময় বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. সামির হোসেন মিশুও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সিভিল সার্জন ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, পুলিশের হাতে আটক ওই ওষুধ ব্যবসায়ী জানিয়েছে সরকারি হাসপাতালে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহের দায়িত্ব থাকা ব্যক্তি এবং হাসপাতালের গুদাম রক্ষকদের কাছ থেকে তিনি ওষুধগুলো পেতেন। তার এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
