ছয় দিন অচেতন থাকার পর মারা গেছেন সীতাকুন্ড উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন রবি। রোববার রাত ১০টায় চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রবিউল হোসেন উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কেদারখীল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত সুবেদার ইব্রাহিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ মার্চ সোমবার এক কোটি ৩০ লাখ টাকায় সীতাকুন্ডের ফকিরহাট গরুর বাজারের ইজারা পান রবি, নাছির ও আরও কয়েকজন। ইজারা পেয়ে তারা পৌর সদরের সৌদিয়া আবাসিক হোটেলে বৈঠকে মিলিত হন।
সোমবার কিংবা মঙ্গলবার পুরো দিন তারা হোটেল থেকে বের হননি। মঙ্গলবার রাত ৮টায় হোটেল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন রবি ও নাসির। তাদেরকে আলাদাভাবে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিরকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিকে লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ১২ ঘণ্টায়ও অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে ডাক্তার তাকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেন। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার ছয় দিন পার হলেও তদন্তে নামেনি পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে হোটেল মালিক পলাতক।
এদিকে তার মৃত্যুর খবরে দলীয় কর্মী সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী তাদের বুঝিয়ে নিবৃত্ত করেন। দলীয় কর্মী সমর্থকেরা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি আল মামুন বলেন, “রবির মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। ঘটনার সাথে কারও হাত থাকতে পারে বলে তার পরিবার থেকে দাবি করা হচ্ছে। লাশের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিব।
সীতাকুন্ড থানার ওসি দেলওয়ার হোসেন বলেন, “বিষাক্ত মদপানে তারা মারা গেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে হত্যার আলামত পেলে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। সিসিক্যামেরার প্রয়োজনীয় ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।
