ঢাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের মারধর, মুখ-মাথায় ৩২ সেলাই

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:৪১ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে জিএস পদে প্রার্থী হওয়া ফরিদ হাসানকে জিএস জুলিয়াস সিজার ও হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে মারধর করে হল থেকে বের দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফরিদ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র। মারধরে আহত ফরিদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তার কপালের ডান পাশ থেকে ডান কান পর্যন্ত ৩২টি সেলাই পড়েছে। কানের পাশে ও চোখের উপরে জখম হয়েছে।

জানা যায়, ফরিদ হাসান এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছাত্রলীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন বলে তখন বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে হল থেকে বিতাড়িত করেছিল ছাত্রলীগ। তার জের ধরে সোমবার রাতে এসএম হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজার ও হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে তাকে আবারও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার সকালে মেডিকেল সেন্টারে ফরিদকে দেখতে আসেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

নুরুল হক নূর সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাকে অমানবিকভাবে মারা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে তার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য আমাদের যা করা লাগে তাই করব।’

হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজারের অভিযোগ, ফরিদ মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদ। ফরিদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ তদন্তে আজ একটি কমিটি গঠন করবে হল প্রশাসন।

ফরিদ অভিযোগ করেন, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসএম হলে নিজের কক্ষে (১৫৯ নম্বর) ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। এসময় হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ওয়াসিফ হাসান পিয়াসের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা কক্ষে গিয়ে তাকে বের হতে বলেন। তারা ফরিদকে টানাহেঁচড়া করে হলের ডাইনিং কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজার, হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান পিকুলসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে তাপস ফরিদের ওপর চড়াও হন। তারা ফরিদকে বলতে থাকেন, ‘তোকে হলে থাকার সাহস কে দিয়েছে?’ ডাইনিং কক্ষে হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজারের সামনেই ছাত্রলীগ নেতারা ফরিদকে মারধর করেন। পরে মারধর থেকে বাঁচতে দৌড়ে হল থেকে পালিয়ে যান তিনি। ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আগে তার কক্ষে চারটি ইয়াবা রেখে তাকে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ফরিদ।

এদিকে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজার গণমাধ্যমকে বলেন, এসএম হল সংসদ ও হল শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে সোমবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত একটি সভা হয়েছে। সভায় মাদক ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গৃহীত হয়েছে। ফরিদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ফরিদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির প্রথম প্রয়োগ হয়েছে। তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি, ভদ্রভাবে হল ছাড়তে বলা হয়েছে। উত্তেজিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে থাকলে সেটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিষয়।

এ প্রসঙ্গে এসএম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার বলেন, ফরিদের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত