আমিরাতের নির্দেশে কাতার সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ১০:২৪ পিএম

বিবিসি, আলজাজিরার চেয়ারম্যান এবং আরববিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মিডিয়ার ওপর গুপ্তচরবৃত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সাহায্য করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের একদল হ্যাকার। হ্যাকারদের ওই দলটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত ছিল। ২০১৭ সালে আরব আমিরাত এবং এর মিত্ররা কুয়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকালীন এই গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

প্রজেক্ট র‌্যাভেন নামে আমিরাতের গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভিন্নমতাবলম্বী, জঙ্গি এবং আমিরাতের রাজতন্ত্রবিরোধীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রজেক্ট র‌্যাভেনের অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ করা হয়। এই প্রকল্পের অধীনে অনেক ব্রিটিশ অধিকারকর্মী এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরই নজরদারি করা হয়। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং ইউএস মিলিটারির সাবেক নয়জন সদস্য। ইউএই এবং কাতারের মধ্যে সংকটাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক সদস্যদের সাইবার যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়া নিয়ে ওয়াশিংটনের খুব একটা মাথাব্যথা নেই। ২০১৭ সালের বসন্তে এই সমস্যার সূত্রপাত হয় প্রথম। তখন ইউএই, তার মিত্র সৌদি অরাব ও মিসর মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা হিসেবে কাতারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই বছরের জুনে প্রথম প্রজেক্ট র‌্যাভেন কাজ করতে শুরু করে। কাতারের সরকার এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন অন্তত ১০ জন সাংবাদিকের আইফোন হ্যাক করা হয় প্রজেক্ট থেকে। এ ছাড়া বৈরুতভিত্তিক বিবিসির প্রতিনিধি এবং আলজাজিরার চেয়ারম্যান ছাড়াও লন্ডন স্যাটেলাইট চ্যানেলের প্রতিষ্ঠাতার মেইল হ্যাক করা হয়। প্রজেক্ট র‌্যাভেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন একজন বলেন, কাতারের রাজপরিবার সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এমন তথ্য-প্রমাণের জন্যই ওই গুপ্তচরবৃত্তি করা হয়েছিল। ওয়াশিংটনে কাতার দূতাবাসের মিডিয়া বিভাগের কর্মী মানসুর আল থানি বলেন, ‘কাতারের সরকার আলজাজিরার কোনো বিষয় নিয়ে অনুরোধ, জিজ্ঞাসা অথবা চাপ প্রয়োগ করে না। সরকার আলজাজিরার স্বাধীনতার মূল্য দেয়।’ কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সাবেক দূত ডানা শেল স্মিথ বলেন, আমেরিকার সাবেক গোয়েন্দারা তাদের সরকারের মিত্রদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিতে অংশ নিচ্ছে এমন ঘটনা উদ্বেগজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত