পয়লা বৈশাখ আসতে বেশি দেরি নেই। বৈশাখের মাসজুড়ে বসবে বৈশাখী মেলা। এই মেলাকে সামনে রেখেই ব্যস্ত সময় পার করছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার সাজ কারিগররা।
শুধু পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে মানিকগঞ্জে অন্তত শতাধিক স্থানে বসবে বৈশাখী মেলা। এ সাজ মানিকগঞ্জসহ আশপাশের অন্তত ১০টি উপজেলায় সরবরাহ হচ্ছে। তাই কারিগরদের কথা বলার সময় নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাজ তৈরি করছে।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। গ্রামীণ মেলা হলে তো বিন্নি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। গ্রাম তো বটেই শহরেও মেলার দিন গাভীর দুধ দিয়ে বিন্নি বাতাসা না খেলে কি চলে।
গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে বিন্নির সঙ্গে বড় বাতাসা, ঘোড়া, হাতি, মটুক, পাখি ও নৌকার সাজ ছাড়া চলেই না। আর এ সাজ তৈরি করেই সংসার চালাচ্ছেন জেলার সাটুরিয়া উপজেলার কয়েক পরিবার।
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটীর ভাটারা গ্রামের কয়েক বণিক পরিবার প্রায় ১৫০ বছর ধরে বিন্নির সাজ তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন।

গ্রাম কিংবা মেলার মধ্যে বিন্নির সঙ্গে সাজ যেমন বড় বাতাসা, ঘোড়া, হাতি, মটুক, পাখি ও নৌকা প্রয়োজন পড়ে। আর এ সাজ শুধুমাত্র জেলার একটি গ্রামেই তৈরি করে থাকে, সেটি হচ্ছে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটীর ভাটারা বণিক পাড়ায়। এ বালিয়াাটীর সাজ মানিকগঞ্জ ছাড়াও টাঙ্গাইল, ঢাকার জেলার বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।
দিলিপ বণিক বলেন, “প্রথমে বিশেষভাবে তৈরি করা পাতিলে চিনি জাল করা হয়, চিনি গলে গেলে, সে গরম চিনির পানি, ঘোড়া, হাতি, মটুক, পাখি ও নৌকার কাঠের ফর্মায় ডালা হয়। মিনিট ১০ পরেই তা আবার ফ্রেম থেকে খুলে ফেলা হয়। আর তৈরি হয়ে যায় সাজ।
কদমা বানাতে গেলে চিনির জাল করে আবার তা ঠান্ডা করে, বিশেষভাবে বড় রশির মতো তৈরি করা হয়, পরে তা চিকন সুতা দিয়ে ছোট ছোট আকারে কাটা হয়, এভাবেই তৈরি হয়ে যায় কদমা। বৈশাখী মেলা উপলক্ষে প্রায় ৫ প্রকার সাজ তৈরি করা হচ্ছে।
দিলিপ বণিক আরও বলেন, “এ বছরের পয়লা বৈশাখী মেলা উপলক্ষে আমরা প্রায় ৩০০ মুন সাজ তৈরির অর্ডার পাব আশা করছি। আমরা প্রতিকেজি সাজ পাইকারি বিক্রি করছি ৮০ টাকা, আর মেলার দিন তারা ১০০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি করে থাকে। এক মুন সাজ তৈরি করতে খরচ হয় ২ হাজার ২শ’ টাকা, আর পাইকারি বিক্রি করা যায় ২ হাজার ৮শ’ টাকা। বড় বাতাসা ১ দিনে ২ মুন তৈরি করা যায়, আর সাজ তেরি করা যায় ৪ মুন পর্যন্ত।”
