বরিশাল সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম ও তার ভাই কর্র্তৃক উপজেলার কাগাশুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুর রহমানকে মারধরের প্রতিবাদে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শিক্ষক সমাজ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সম্মুখ সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি-বরিশাল। এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই প্রধান শিক্ষককে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মারধর করা হয়। বরিশাল শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ ফরিদুল আলম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি শিক্ষক নেতা আশীষ কুমার, যুগ্মসম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন প্রমুখ।
কাগাশুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুর রহমান জানান, বরিশাল সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ওই বিদ্যালয়ের আইসিটির শিক্ষক। তিনি বিদ্যালয়ের সকল কাজে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। সম্প্রতি তার বড় ভাই নূরুল ইসলাম বাচ্চুকে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, তার ছোট ভাই রাসেল মুনশীর স্ত্রীকে অফিস সহকারী এবং বড় ভাইয়ের ছেলে রানাকে পিয়ন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
কিন্তু প্রধান শিক্ষক এতে সম্মত না হওয়ায় গত মঙ্গলবার ওই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মনির মুনশী ও হৃদয় মুনশীসহ আরও কয়েকজন দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে যান। তারা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ কেন অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছেÑ জানতে চান। সরকারি বিধি অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন।
বরিশাল সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেহানা পারভীন বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ছয় মাসের অ্যাডহক কমিটি না করে নিয়মিত কমিটি গঠন করা। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বারবার অ্যাডহক কমিটি গঠন করায় অভিভাবক সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। কমিটি গঠন নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’ মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ভাইস চেয়ারম্যানের দুই ভাই কমিটির অভিভাবক সদস্য কি না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জানান, তারা কমিটির কেউ নন।
