বশেমুরবিপ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৩৪ পিএম

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-সিএসই বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন দুই ছাত্রী।

অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবিতে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে রোববার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মো. আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রী যৌন হয়রানি অভিযোগ তোলেন গত ডিসেম্বরে।

তারা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু, তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হয় বলে দুই ছাত্রী অভিযোগ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরলে আলোচনায় উঠে আসে পুনরায়। বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলার সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

image

যৌন নিপীড়নের শিকার দুই শিক্ষার্থী জানান, ওই শিক্ষক কৌশলে দুই শিক্ষার্থীসহ তিন শিক্ষার্থীর থিসিসের দায়িত্ব নেন। এরপর বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষক তাদের বাসায় ও ব্যক্তিগত চেম্বারে ডাকতেন এবং শরীর স্পর্শ করতেন। মোবাইল ফোনে ডেকে এনে তাদেরকে কুপ্রস্তাব দিতেন। পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি এ সুযোগ নিতেন। ফাইনাল পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার  নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়।

তারা আরও জানান, সম্প্রতি তাদের অভিযোগপত্র কে বা কারা ফেসবুকে পোস্ট করে দেয়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য লিখে এ ঘটনার নিন্দা জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক নারীঘটিত ঘটনা ঘটার পর সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার না হওয়া পর‌্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলেও তারা জানান।

image

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আক্কাস আলী বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্স-এর শিকার হয়েছেন। একই বিভাগের অন্য শিক্ষকের সঙ্গে বিভাগীয় প্রধান হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলে আসছিল। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাকে শিক্ষার্থী দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসার ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনকে দুপুরে তার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কেটে দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত