বিদ্যালয়ের বিম ভেঙে শিক্ষার্থী হতাহত

নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী নথি পাচ্ছে না এলজিইডি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৩৯ পিএম

বরগুনার তালতলী উপজেলার পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের বিম ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থী হতাহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা গত সোমবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক ধারণা, বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল।  এদিকে ২০০৪ সালে নির্মিত ওই ভবন সম্পর্কিত কোনো তথ্য খুঁজে পাচ্ছে না উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। 

বিদ্যালয় ভবন পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সাবের হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবনটি দেখতেই নড়বড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল। যার ফলে ভবনটি ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-০১) মাহবুবুর রশিদ।

গতকাল বুধবার উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে ভবনটির নির্মাণব্যয়, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি। আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুরনো ফাইল অনেক খুঁজেও আমরা পাইনি। ফাইল খুঁজে পেলে আপনাদের সব তথ্য জানানো হবে।’ উল্লেখ্য, বর্তমানের তালতলী উপজেলা এর আগে আমতলী উপজেলার অংশ ছিল। ১০১২ সালের ২৫ এপ্রিল আমতলী উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে তালতলী উপজেলা গঠিত হয়। স্কুল কর্র্তৃপক্ষ জানায়, ২০০২ সালে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (পিডিইপি-০২) মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি একতলা ভবন নির্মাণের জন্য সেতু এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়। ২০০৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণ করে বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাকির হোসেন চুন্নু জানান, সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদারের ভাগ্নে আবদুল্লাহ আল মামুন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হুমায়ন কবির সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করেন। সে সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হুমায়ন কবির বলেন, ‘বিদ্যালয় ভবনটি আমার লাইসেন্সে নির্মাণ করা হলেও ঠিকাদারের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমানের ভাগ্নে আবদুল্লাহ আল মামুন।’ এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ভবন নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও শিক্ষা অফিসের সব কর্মকর্তাই কাজের গুণগত মান পরীক্ষা করেছেন। কাজে নিম্নমানের উপকরণ থাকলে তখন কেন বলা হলো না। এখন কেন এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে?’

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল দুপুরে বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিম ধসে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মানসুরা বেগম মারা যায়। এ সময় আহত হয় আরও পাঁচজন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত