আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হাতকড়া পড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট।
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হাতকড়া পরানোর ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বুধবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন সেখানকার ইউএনও মো. জসীম উদ্দিন। শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ২৪ এপ্রিল তাকে আবারও আদালতে আসার নির্দেশ দেয়। গত ১৩ মার্চ এক আদেশে ইউএনওকে তলব করেছিল হাইকোর্ট।
আইন অমান্য করে প্রকৌশলীকে হাতকড়া পড়ানোয় ইউএনওর প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে আদালত এ বিষয়ে ইউএনওর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শুনানিতে ইউএনওর আইনজীবী শফিক মাহবুব বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আদালত বলেন, ভুল বোঝাবুঝি হলেও প্রকৌশলীকে হাতকড়া পরানোর ক্ষমতা ইউএনওর আছে কী? তিনি তো হাতকড়া পড়াতে পারেন না। এ সময় প্রকৌশলীর আইনজীবী সাইফুদ্দিন আহমেদ ইউএনওর শাস্তি দাবি করেন।
আদালত ইউএনওকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, সরকারের এক বিভাগের কর্মচারীর সঙ্গে আরেক বিভাগের কর্মচারীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উল্লেখ্য, বাহুবল উপজেলা পরিষদের এক অফিস সহকারীকে মারধর করেছেন প্রকৌশলী মহিউদ্দিন চৌধুরী- এমন অভিযোগে গত ৬ মার্চ তাকে হাতকড়া পরান ইউএনও জসীম উদ্দিন। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান ওই প্রকৌশলী। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হলে বিষয়টি আমলে নিয়ে হাইকোর্ট ইউএনওকে তলব করেন।
