জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড়দের ইন্ধনে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তিন শিক্ষক ও নয় শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়।
বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বুধবার বিকেলে জাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার খেলোয়াড়, জাবির ক্রীড়া কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা জানান, খেলা শেষ হওয়ার ১২ মিনিট আগ পর্যন্ত ইবি দল তিন পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। এ সময় ইবি দলের জয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী তাদের মারধর শুরু করে।
জাবির শারীরিরিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতাদের অনানুষ্ঠানিক একটি বৈঠকের কথোপকথন থেকেও মারধরে জাবির খেলোয়াড়দের উসকানির বিষয়টি উঠে আসে।
এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
এতে শারীরিক শিক্ষার পরিচালক হাবিবা ইয়াসমীনকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা কি হয়? জোর করে কি জেতা যায়’!
একজন কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়াতেই তারা খেলতে এসেছিল’।
সহাকারী পরিচালক দেবব্রত পালকে বলতে শোনা যায়, ‘রেফারির সিদ্ধান্তই তো মানতেছিল না। রেফারিকে তো গিয়ে থ্রেট করতেছিল’।
খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মেন্টালি মাইনা নিতে পারি নাই। আমরা যারা কর্মকর্তা আমরাও মাইনা নিতে পারি নাই। যে, আপনাদের কথার মধ্যেই আছে যে আরেকটু হইলেই জাহাঙ্গীরনগর জিতা যাইত। কোনো অবস্থায়ই জাহাঙ্গীরনগর জিতে না’।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক সোলনারা আক্তারকে বলতে শোনা যায়, ‘মেরে আবার কোনো দুঃখপ্রকাশ নাই। বলে কী, ওরা তো বহিরাগত ওদের তো মারবই। ওরা আমাদের অতিথি না! এটাই সবচেয়ে কষ্টদায়ক। কীভাবে মারছে’!
শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি জিয়াউর রাফিকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলোয়াড়রা যদি বলে আমরা খেলে জিতব এত উত্তেজিত হয়ো না, দর্শকরা কি উত্তেজিত হইতে পারে? যেখানে খেলোয়াড়রাই বলে ওই তোরা মার। খেলোয়াড়দের জাহাঙ্গীরনগরের প্রতি কোনো দায়ই নাই। স্যার, যাদের মাইরা-ধইরা জিতার অবস্থা তাদের টিমেই রাখবেন না। স্রেফ একটা কথা।’
খেলা চলাকালে জাবির খেলোয়াড়দের মেজাজ দেখানোর কথা স্বীকার করে হাবিবা ইয়াসমীন বলেন, ‘খেলোয়াড়রা টেম্পার দেখাচ্ছিল। দুই দলের খেলোয়াড়রাই টেম্পার দেখাচ্ছিল।’
ইবির খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা দাবি করেন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ায় তারা স্থগিত খেলায় পুনরায় অংশ নিতে রাজি হন। কিন্তু নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি।
জানতে চাইলে জাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, এ ঘটনায় লজ্জা প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আমাদের এখন আর কিছু বলার নাই। যারা জড়িত ভিডিও দেখে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।
নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্পেল বাউন্ড আমাদের বলেছে পুলিশ লাগবে। আমরা তাদের পুলিশ এনে ভেন্যুর আশেপাশে রাখতে বলেছি। কিন্তু তারা আর পরে যোগাযোগ, করেনি পুলিশও আনেনি।
বঙ্গবন্ধু আন্তবিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল পর্যায়ের এ খেলাটি রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইবির খেলোয়াড়দের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগে খেলার শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়ে যায়।
মারধরের ভিডিও-
