জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যা: রবীন্দ্রনাথের ডাকে সাড়া দেননি গান্ধী

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৩৯ পিএম

শনিবার ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের শতবর্ষ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এক শ বছর আগে জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যার প্রতিবাদে নাইটহুড উপাধি বর্জন করেন সাহিত্যে নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তবে তার প্রতিবাদে সাড়া দেননি মহাত্মা গান্ধী ৷দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মতো নেতাও তখন তার পাশে দাঁড়াননি। 

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড (অমৃতসর হত্যাকাণ্ড) ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কুখ্যাত গণহত্যা। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল বৈশাখি উৎসবের দিন অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসর শহরে ইংরেজ সেনানায়ক ব্রিগেডিয়ার রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

প্রায় এক শ বছর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এ হত্যাকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করেন। 

সেই ১৩ এপ্রিল দিনটা ছিল পাঞ্জাবের বৈশাখি উৎসব। ফলে উৎসবের জন্য সকাল ৯টার সময় জালিয়ানওয়ালাবাগে জমায়েত হয়েছিল অমৃতসর ও তার আশপাশের বহু মানুষ, যাদের অনেকেরই জানা ছিল না সরকারি নির্দেশের মিটিং-মিছিল নিষিদ্ধ করার কথা।

কিন্তু ওইদিন ডায়ার প্রায় ১০০ গুর্খা সৈন্য আর দুটি সাজোয়া গাড়ি নিয়ে ঘিরে ফেলেন ছয়-সাত একরের গোটা উদ্যান। 
তারপর ডায়ারের নির্দেশে অতর্কিতে শুরু হয় গুলি বর্ষণ। বাঁচতে বাগের মাঝখানে থাকা কুয়ায় ঝাঁপ দিলে পাথর ফেলে কিছু মানুষকে জীবন্ত হত্যা করা হয়। 

ব্রিটিশ সরকারি হিসাবে সেদিন ৩৭৯ জনের মৃত্যু এবং ১১ শ ব্যক্তি আহত হয়েছে। যদিও বেসরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ছিল হাজারের অনেক বেশি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন একটা প্রস্তাব দিয়ে তার সহকারীকে পাঠালেন মহাত্মা গান্ধীর কাছে ৷ প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, তিনি (রবীন্দ্রনাথ) গান্ধীকে সঙ্গে নিয়ে পাঞ্জাব যাবেন। 

কারণ তখন সেখানে পাঞ্জাবের বাইরের লোকেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ব্রিটিশ সরকার৷ তারা গেলে নিশ্চিত গ্রেপ্তার হতেন।
আর গান্ধীর গ্রেপ্তারের খবর চাপা থাকবে না, ফলে গোটা বিশ্বে তা ছড়িয়ে পড়বে। 

কয়েকদিন বাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহকারী ফিরে জানালেন, কবির প্রস্তাবে গান্ধীজি রাজি নন। ওই সময় সরকারের সঙ্গে কোনোরকম প্রত্যক্ষ সংঘাতে যেতে রাজি নন মহাত্মা গান্ধী।

ভারতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের লেখা থেকে নেয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত