রাজধানীর মগবাজারে বহুতল ভবনের গ্যারেজে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মগবাজারের কাজী অফিস গলিতে ১৫ তলা আবাসিক ভবনের বেজমেন্টের গ্যারেজে আগুনে একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি প্রাইভেটকার পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুরো ভবনটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের শত শত বাসিন্দা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। বেজমেন্টে আগুন লাগার পর ভবনের লিফট বন্ধ করে দেওয়ায় বহুতল এই ভবন থেকে নামতে গিয়ে কয়েকজন সামান্য আহত হন বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। তখন আশপাশের ভবনগুলোতেও আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, একটি গাড়ি অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় (ওভার হিট) ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। এতে আরও দুটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে।
নববর্ষের দিন কাফরুলে আগুন : রাজধানীর কাফরুল এলাকায় ‘সিটি পার্ক ভবন’ নামে একটি বহুতল ভবনে নববর্ষের দিন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
গত রবিবার বিকেলে ১০ তলা ভবনটির ছয়তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়। এতে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী আহত হন। এ দুর্ঘটনার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছুটির দিন হওয়ায় ঘটনাস্থলে হাজারো মানুষ ভিড় করে। এতে আগুন নেভাতে সমস্যা হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা নাজমা আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বের হচ্ছিল। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ষষ্ঠতলায় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। এ জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তারা বিকেল ৫টায় আগুন লাগার খবর পান এবং তাদের ১৮টি ইউনিট আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটির নিচতলায় দোকান এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় সিটি পার্ক চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সেন্টার রয়েছে। ওপরের তলাগুলোতে বিভিন্ন বেসরকারি অফিস ও গার্মেন্টসপণ্যের
গুদাম ছিল। বন্ধের দিন থাকায় ওপরের তলাগুলোতে লোকজন ছিল না। চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ভিড় থাকলেও ধোঁয়া দেখে লোকজন নিরাপদে বের হতে পেরেছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (অপারেশন) দিলীপ কুমার ঘোষ জানান, তাদের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত কৌশলে কাজ করেছেন। ওপরের তলাগুলোতে আগুন যাতে না ছড়াতে পারে, সে জন্য পানি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। এ কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও বলেন, রাস্তায় প্রচ- যানজট ছিল। এতে ফায়ার ফাইটারদের ঘটনাস্থলে যেতে বেগ পেতে হয়েছে এবং সেখানে গিয়েও উৎসুক জনতার কারণে বেগ পেতে হয়।
