গ্রীষ্মের আকর্ষণীয় ফুলের একটি হচ্ছে ডালিয়া। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ঘরে খাবারের প্লেটে সাজসজ্জার জন্য অনেকেরই পছন্দ এ ফুল। অনেকে শখের বশে বাগানে বা টবে ডালিয়া ফুলের গাছ লাগান। আসুন জেনে নিই এ ফুল সম্পর্কে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
১. সহস্রাধিক জাতের ডালিয়া
মূল ৩০ প্রজাতির ডালিয়া ২০ হাজার ধরনের চাষ করা হয়। ফুলের আকৃতি অনুসারে একেকটির একেক রূপ দেওয়া হয়। একাধিক রঙের এ ফুলটিকে অন্যান্য ফুলের রূপও দিয়ে থাকে ফুলচাষি ও খামারিরা। শাপলা, ক্যাকটাসের মতো আকৃতিতে এ ফুল চাষ করা হয়। বড় করে ছড়ানো ডালিয়া ছাড়াও ক্যাকটাস ধরনের ডালিয়া অধিক জনপ্রিয়।
২. সবজি হিসাবেও খাওয়া যায়
১৮ শতাব্দীর সুইডিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী আন্দের্স ডাল এ ফুলটির নামকরণ করেন। তবে এটিকে তিনি সবজি হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। এর মূলকাণ্ডকে খাদ্য হিসাবে বিবেচনা করে এটিকে তিনি সবজির কাতারে ফেলে দিয়েছিলেন। আলু বা মুলার মতোই এর মূলকাণ্ড খাওয়া যায়।
৩. বিয়েতে ব্যবহারে বিশেষ তাৎপর্য
শুধু সৌন্দর্যের কারণেই বিয়েতে ডালিয়া ব্যবহার করা হয় না। এর পেছনে আছে বিশেষ কারণও। ভিক্টোরিয়ান যুগে ডালিয়া ছিল অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি এবং আজীবন বন্ধনের প্রতীক। এ ছাড়া ভেতরের শক্তিমত্তা, সৃষ্টিশীলতা এবং সৌন্দর্যের প্রতীক হিসাবেও এটিকে দেখা হতো।
৪. জন্ম তার মধ্য আমেরিকায়
মেক্সিকোর জাতীয় ফুল ডালিয়া। ১৬১৫ সালে দেশটিতে ডালিয়া প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর এটির মূলকাণ্ড ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়। রক্তে চিনির ভারসাম্য রাখতে ইনসুলিন হিসেবে ডালিয়ার মূলকাণ্ড ব্যবহার হতো সেসময়। ত্বক সজীব করতে, শরীরের দাগ মুছতে ও পোকামাকড়ের কামড়ালে এর পাপড়ি ব্যবহার করা হতো।
৫. পৃথিবীতে নেই নীল রঙের ডালিয়া
সব রঙেই ডালিয়া পাওয়া যায়। শুধু নীল ছাড়া। ঊনবিংশ শতাব্দীতে লন্ডনের একটি সংবাদপত্র ঘোষণা দিয়েছিল, কেউ নীল ডালিয়া সৃষ্টি করতে পারলে পুরস্কৃত করা হবে। অনেক চেষ্টা করে নীলের কাছাকাছি হলেও একেবারে নীল রঙের ডালিয়া চাষ করতে পারেনি কেউ।