মহানগরের ১০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান কখনো গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) দেয় না। পাওনা পরিশোধে নগর কর্র্তৃপক্ষ বারবার চিঠি দিলেও মেলে না উত্তর। এসব প্রতিষ্ঠানের বকেয়া গৃহকরের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বর্তমানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ২৩ কোটি টাকা গৃহকর বকেয়া রয়েছে। এর বড় অংশই দেননি মাত্র দেড় হাজার ব্যক্তি।
রাসিক কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (আরডিএ), রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজশাহী টেক্সটাইল মিলসের বকেয়া গৃহকর কোটি টাকার ওপরে। এর মধ্যে আরডিএর কাছে পাওনা ১ কোটি ৪১ লাখ, রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে ১ কোটি ৩ লাখ এবং টেক্সটাইল মিলসের কাছে ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম ৯৮ লাখ ৯১ হাজার, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম ৪৮ লাখ ২০ হাজার, জাফর ইমাম আন্তর্জাতিক টেনিস কমপ্লেক্স ১৫ লাখ ৩৮ হাজার, শিল্পকলা একাডেমি ৪ লাখ ৬৮ হাজার, রাইফেল ক্লাব ৪ লাখ ১১ হাজার, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ৭ লাখ ৪১ হাজার এবং রাজশাহী সার্ভে অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ১৫ লাখ ৭ হাজার টাকা দেয়নি।
সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহানা আখতার জাহান বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্সের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সব প্রতিষ্ঠানকেই কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, নগরীতে মোট হোল্ডিং (গৃহের সংখ্যা) ৬০ হাজার ১৪৬টি। এ থেকে বছরে আদায়যোগ্য কর ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। প্রতি বছরই বকেয়া পাওনা বাড়ছে সিটি করপোরেশনের। কর্মকর্তারা জানান, কোনো অর্থবছরেই হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া পড়েছে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে, এর পরিমাণ পৌনে ২ কোটি টাকা। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তুলনামূলক অর্থবান লোকদের কাছেই বকেয়া বেশি। এরকম ১ হাজার ৫৩০ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে সিটি করপোরেশন। তাদের বকেয়া ট্যাক্সের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা।
বকেয়া গৃহকরের বিষয়ে জানতে চাইলে আরডিএ চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, ‘ট্যাক্স আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আইন নিয়ে খানিকটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তবে পরে জেনেছি, এটা আরডিএকে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের বকেয়া এত বেশি যে তা পরিশোধ করা সম্ভব নয়।’ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের বকেয়ার বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রাফিউস শামস বলেন, ‘তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগে কেউ হোল্ডিং ট্যাক্স দেয়নি।’
রাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স রিভিউ কমিটির সভাপতি নিযাম উল আযীম বলেন, ‘মাত্র দেড় হাজার ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা বকেয়া পড়েছে। ট্যাক্স পরিশোধে তাদের বারবার চিঠি দিলেও কোনো সাড়া নেই। এ অবস্থায় খেলাপিদের সেবা বন্ধ ও প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী মালামাল ক্রোক করার কথা ভাবা হচ্ছে।’
